বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী - Uttorpatro TV

বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: September 10, 2026

দেশ ও জনগণের কল্যাণে বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সংসদের প্রতি প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, আলোচনা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি স্বীকার করেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। সরকার এ সমস্যা সমাধানে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট শুধু সরকারের একার বিষয় নয়; এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরাসরি জড়িত। এ ধরনের জাতীয় সমস্যা মোকাবিলায় বিরোধীদলীয় নেতাদের সহযোগিতাও সরকার প্রত্যাশা করেছিল বলে জানান তিনি।

তবে সংকট সমাধানে রাজপথে আয়োজিত কর্মসূচির সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি বড় গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে জনমনে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে—এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে উত্তেজিত করার কিংবা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

লংমার্চের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র গাড়ির বহর নিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করলেই যদি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান করা যেত, তাহলে সরকারই সবার আগে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করত।

তিনি মূলত রাজপথের কর্মসূচির পরিবর্তে জাতীয় সমস্যাগুলো নিয়ে সংসদে গঠনমূলক আলোচনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই সংসদের প্রতি দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকার ও বিরোধীদল উভয়ের অংশগ্রহণে কার্যকর সংসদীয় পরিবেশ তৈরি করা জরুরি বলেও তিনি মত দেন।

তারেক রহমানের বক্তব্যে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি মনে করেন, জনগণের মৌলিক সমস্যা ও জাতীয় সংকটগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার পথ খোলা রাখা প্রয়োজন।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বর্তমানে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের সীমাবদ্ধতা শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে গ্যাসের ঘাটতি বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে চাপ তৈরি করে। ফলে এই সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। সরকার এককভাবে সব সমস্যা সমাধান করতে পারে—এমন ধারণার পরিবর্তে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বিরোধীদলের মতামত ও সহযোগিতাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

সংসদের কার্যক্রম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, জনগণ সংসদকে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য বা বিতর্কের জায়গা হিসেবে দেখতে চায় না; বরং তাদের বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে।

এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ এবং গঠনমূলক বিতর্কের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। গ্যাস, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য কিংবা অন্যান্য মৌলিক সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে সমন্বয় থাকলে জনগণ উপকৃত হবে।

লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে রাজনৈতিক কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে আসে। তাঁর মতে, কোনো কর্মসূচি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখে। শুধু কর্মসূচি পালন বা জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি করে সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সংসদকে রাজনৈতিক মতবিনিময়ের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি মনে করেন, বিরোধীদল সরকারের সমালোচনা করবে—এটাই সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। তবে সেই সমালোচনার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও গঠনমূলক প্রস্তাবও থাকা উচিত।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সরকারপ্রধান। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বিরোধীদলকে বাইরে রেখে নয়, বরং তাদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে চায় সরকার।

এদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জনভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা রয়েছে। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধীদলের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে—একদিকে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করতে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা। জাতীয় স্বার্থে মতপার্থক্যের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার জায়গা তৈরি করার ওপরই তিনি জোর দিয়েছেন।