আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা: সাংবাদিকের ওপর হামলা সেনা ও বিজিবি মোতায়েন, গ্রেপ্তার ৮৮ - Uttorpatro TV আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ও শতাধিক গ্রেপ্তার

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা: সাংবাদিকের ওপর হামলা সেনা ও বিজিবি মোতায়েন, গ্রেপ্তার ৮৮

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: June 24, 2026
ছবিঃ উত্তরপত্র

ঢাকা: কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক নাশকতার আশঙ্কায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী এবং পাঁচটি জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে দিনভর তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করলেও বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গতকাল সকাল থেকেই ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ১৮ হাজারেরও বেশি সদস্য পুরো রাজধানীতে দায়িত্ব পালন করেন। সোমবার সন্ধ্যা থেকেই ডিএমপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় নাশকতাবিরোধী মাইকিং করা হয়।

গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন এবং তেজগাঁওয়ের দলীয় কার্যালয়ের চারপাশের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেন নিরাপত্তা কর্মীরা। বিভিন্ন মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। সকালের দিকে রাস্তায় গণপরিবহন কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গত দুদিনে ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগের ৪৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে রাতের দিকে দারুস সালাম এলাকার টেকনিক্যাল মোড়ে একটি চলন্ত বাস থেকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও এতে কেউ হতাহত হয়নি।

আওয়ামী লীগের তৎপরতা রুখতে গতকাল সকাল থেকেই রাজপথে সক্রিয় ছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ চলছিল। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বক্তব্য সংক্ষেপ করার অনুরোধ জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে জামায়াত নেতাকর্মীরা গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিকদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এই হামলায় দৈনিক সকালের স্টাফ রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির, দৈনিক কালবেলার আব্দুর রহমান ইশান, দ্য নিউজের মারুফ হোসেন এবং যমুনা টিভির রাব্বী সিদ্দিকী আহত হন। এই ঘটনার একটি ভিডিওতে জামায়াতের স্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকে হামলায় সরাসরি অংশ নিতে দেখা গেছে।

পরবর্তীতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে সাংবাদিকদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ছাত্রদল, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এবং মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)।

রাজধানীতে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও দেশের কয়েকটি জেলায় ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। গোপালগঞ্জের দীঘারকুল গ্রামে পৌর ছাত্রলীগের ব্যানারে ৩০-৪০ জন কর্মী সংক্ষিপ্ত মিছিল ও কেক কাটার আয়োজন করে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানায়, গোপালগঞ্জ থেকে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও নগরকান্দার সীমান্তবর্তী এলাকায় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করলে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় ৫ জন আওয়ামী লীগ কর্মীকে আটকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, সাতক্ষীরা, কিশোরগঞ্জ, পিরোজপুর ও রাঙামাটিসহ বিভিন্ন জেলা থেকে যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপরদিকে শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে গভীর রাতে ইউনিয়ন বিএনপির একটি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করছে স্থানীয় বিএনপি।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে যেকোনো ধরনের ‘ফ্যাসিবাদী নৈরাজ্য’ রুখতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের আর কোনো সুযোগ নেই, দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি এখন সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। দেশের বিভিন্ন জেলা যেমন— কুষ্টিয়া, যশোর, লক্ষ্মীপুর, রংপুর ও মেহেরপুরে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। যশোর জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে সকাল-সন্ধ্যা সতর্ক পাহারায় থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।