রেলের টিকিট যুদ্ধে লড়ছে লাখো মানুষ: মিনিটেই শেষ হলো প্রথম দিনের সব আসন - Uttorpatro TV অনলাইনে টিকিটের হাহাকার, ফাঁকা কমলাপুর কাউন্টার: ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিটের আদ্যোপান্ত

রেলের টিকিট যুদ্ধে লড়ছে লাখো মানুষ: মিনিটেই শেষ হলো প্রথম দিনের সব আসন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১৪, ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিনেই দেখা দিয়েছে চরম হাহাকার। বুধবার অনলাইনে টিকিট ছাড়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রায় ৯৫ শতাংশ টিকিট শেষ হয়ে যায়। নির্ধারিত ৩১ হাজার ২৪০টি টিকিটের বিপরীতে সার্ভারে কয়েক মিনিটে প্রায় ৮০ লাখ বার টিকিট কাটার চেষ্টা করা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় যোগান কতটা অপ্রতুল তা স্পষ্ট করে তুলেছে।

রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চল এবং দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলের টিকিট উন্মুক্ত করা হয়। সহজডটকম এবং রেলওয়ে অপারেশন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, টিকিট ছাড়ার ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে সব ধরনের আসন শেষ হয়ে যায়। বিপুল সংখ্যক মানুষ একসাথে সার্ভারে প্রবেশ করায় অধিকাংশ সাধারণ যাত্রীই লগ-ইন করে টিকিটের দেখা পাননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক যাত্রী তাদের ব্যর্থতা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এক সময় অগ্রিম টিকিটের জন্য কমলাপুর স্টেশনে কয়েক কিলোমিটার লম্বা লাইন দেখা গেলেও এখন চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্টেশনের ২৭টি কাউন্টারের বেশিরভাগই বন্ধ। তবে টিকিট না পেয়ে অনেক অসহায় যাত্রী এখনও স্টেশনে ভিড় করছেন এই আশায় যে, যদি কাউন্টার থেকে কোনো ব্যবস্থা হয়। স্টেশনে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বিল্লাল জানান, অনলাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তিনি সরাসরি কাউন্টারে এসেছেন, কিন্তু সেখানেও কোনো আশার আলো নেই।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার কবির উদ্দিন মোল্লা জানিয়েছেন, যাত্রার দিন মোট আসনের মাত্র ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং বা শোভন শ্রেণির টিকিট কাউন্টার থেকে দেওয়া হবে। এর বাইরে কোনো টিকিট কাউন্টার থেকে পাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে, রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলাম জানান, টিকিটের চাহিদা রেলের সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। ইঞ্জিল ও কোচের সংখ্যা দুই-তিন গুণ না বাড়ানো পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়।

ঈদের ভিড় সামলাতে এবার ১০টি বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর বাজার থেকে ২২ ও ২৩ মে দুটি বিশেষ ‘ক্যাটল ট্রেন’ চলাচল করবে। উল্লেখ্য, এবারও একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কাটতে পারছেন এবং এই টিকিট কোনোভাবেই ফেরতযোগ্য নয়। ২৩ মে’র যাত্রা দিয়ে শুরু হওয়া এই টিকিট যুদ্ধের পরবর্তী ধাপগুলো চলবে ১৭ মে পর্যন্ত।