ইসলামী ব্যাংকের বিপুল অংকের শেয়ার কারসাজি এবং দেশের ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন অনিয়ম-লুটপাটের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অভিযুক্ত পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করেন যে, বিতর্কিত শিল্প গোষ্ঠী ‘এস আলম গ্রুপ’-এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের সার্বিক আর্থিক খাতকে যে প্রক্রিয়ায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তার পেছনে মূল কলকাঠি নেড়েছেন পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তিনি তাঁর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম আস্থাভাজন এবং শক্তিশালী একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু এস আলম গ্রুপ এটিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে দেশের শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এই মহালুটপাটের পেছনের নেপথ্য মদদদাতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় না আনলে ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে আন্দোলনকারীরা কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন। তাঁদের মূল দাবিগুলো হলো:
১. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার: ব্যাংক লুটপাট ও কারসাজিতে সরাসরি সহযোগিতার দায়ে পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মুখোমুখি করতে হবে।
২. অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: এস আলম গ্রুপ এবং তাদের সাথে যুক্ত থাকা ব্যাংকের সর্বস্তরের অসাধু কর্মকর্তা ও নীতি-নির্ধারকদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।
৩. আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা: সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামী ব্যাংকে কার্যকর ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করতে হবে।
সমাবেশ শেষে মতিঝিলের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে পুনরায় ইসলামী ব্যাংকের সামনে এসে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আমানতকারীদের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এবং ব্যাংক খাতের শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মতিঝিল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।