রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ফাইল ছবি: বাসস

ঢাকা: দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা মো. সাহাবুদ্দিন শীঘ্রই পদত্যাগ করতে পারেন বলে নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সূত্রে জানা গেছে। শারীরিক অসুস্থতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে জোর আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতিমধ্যে বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন এবং চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ গমনাগমন করতে পারেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন এবং গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই বঙ্গভবনকেন্দ্রিক নানা গুঞ্জন থাকলেও সম্প্রতি এই আলোচনার গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
পূর্বে জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম আলোচনায় থাকলেও বর্তমানে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত একজন অভিজ্ঞ সচিবের নাম ব্যাপকভাবে উঠে আসছে। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের আস্থা অর্জনের কারণে তিনি আলোচনার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তবে এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি যদি নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান, তবে তা লিখিত ও স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে স্পিকারের উদ্দেশ্যে জমা দিতে হবে (অনুচ্ছেদ ৫০/৩)।
রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হলে কিংবা শারীরিক অসুস্থতা ও অনুপস্থিতির কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। পরবর্তী সময়ে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিবর্তনের সৃষ্টি হয় এবং ছাত্রনেতা সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন তাঁর অপসারণ ও পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ বিষয়ে কোনো তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেয়নি। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই সাংবিধানিক পদে পরিবর্তনের বিষয়টি পুনরায় সামনে চলে আসে। দায়িত্বে আসার আগে থেকেই তাঁর দুদক কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তীতে বেসরকারি কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংকের পদ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক বিদ্যমান ছিল।
যদি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন, তবে বর্তমান শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এটিই হবে সবচেয়ে বড় ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আগামী দিনের নির্বাচন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।