ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়া মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ক্রিস্টাল জিমারম্যান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছেন। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ে শুরুতে সমর্থন দিলেও বর্তমান পরিস্থিতি তাকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। টানা বোমা হামলা এবং দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুমকির পর এখন এক অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি চলছে, যেখান থেকে বের হওয়ার স্পষ্ট কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না।
জিমারম্যানের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো অনিচ্ছাকৃতভাবেই দেশকে দীর্ঘমেয়াদি এক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছেন। ৪০ বছর বয়সী এই সাবেক সেনা সদস্য বাগদাদ থেকে ফেরার পর মানসিক অবসাদ ও অনিদ্রায় ভুগছেন। কলোরাডো স্প্রিংসের একটি ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বলেন, এই যুদ্ধ আসলে অর্থ ও সম্পদের অপচয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ইরানের বিরুদ্ধে এই সংঘাত এখন সাত সপ্তাহে গড়িয়েছে। শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প আবারও তার পরিচিত কড়া ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ফিরে গেছেন। ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তিনি দেশটির বন্দর অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে করে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও বিভ্রান্তি বাড়ছে।
জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে প্রায় ৬ জনই এই যুদ্ধের বিরোধী। ২০০০-এর দশকের শুরুতে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ কিংবা ’৯০-এর দশকের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় যে জনসমর্থন ছিল, তার তুলনায় এটি বড় পরিবর্তন।
অনেকের মতে, মার্কিন প্রশাসন এই যুদ্ধ নিয়ে পরিষ্কার অবস্থান নিতে পারেনি। জনগণকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হয়নি এবং যুদ্ধের উদ্দেশ্যও যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে মার্কিন হামলার প্রতিবাদে গত ২ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের সিটি হলের সামনে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশছবি: রয়টার্স
উত্তর ক্যারোলাইনার ফেয়্যাটভিলে ১৯ বছর বয়সী এমেলিয়া লরেঞ্জেন বলেন, তিনি মনে করেন না ট্রাম্প কোনো সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এই শহরটি ফোর্ট ব্র্যাগ সেনাঘাঁটির জন্য পরিচিত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলো অবস্থান করছে।
তবে যুদ্ধবিরোধী এই মনোভাব এখনো তেমন জোরালো আন্দোলনে রূপ নেয়নি। ক্যাফের আড্ডা বা সাবেক সেনাদের আলোচনার মধ্যেই মূলত অসন্তোষ সীমাবদ্ধ রয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ বা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের সময় যেমন বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল, এবার তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না।
অরেগনের পোর্টল্যান্ডে এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ৬৪ বছর বয়সী মাইক কিফ বলেন, তিনি অবাক হচ্ছেন কেন আরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামছে না। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট যা-ই করুন না কেন, তাতে আর অবাক হওয়ার কিছু নেই।
ইরান যুদ্ধের প্রশ্নে মার্কিন জনমত স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক বিভাজনে পড়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের বড় অংশ যুদ্ধের বিরোধী, আর রিপাবলিকানদের বেশির ভাগ প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। এই জরিপটি সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির আগেই পরিচালিত হয়েছিল।