সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন মন্তব্য করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রক্রিয়াকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল বাছাইকৃত একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সীমিত কয়েকজনের অংশগ্রহণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বৃহত্তর জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়নি।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার: সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, আদালতের নির্দেশনা ও জনআকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
সারা হোসেন অভিযোগ করেন, ঐকমত্য কমিশনে কোনো নারী সদস্য রাখা হয়নি। একইভাবে বিচারব্যবস্থা সংস্কার কমিশনেও নারী আইনজীবী বা বিচারপতিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা তিনি একটি বড় ঘাটতি হিসেবে দেখছেন।
গণভোটের তৃতীয় প্রশ্ন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, সাধারণ জনগণের বড় একটি অংশ এ প্রশ্নের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তিনি বলেন, মানুষ যদি না জানে কী বিষয়ে ভোট দিচ্ছে, তাহলে সেই ভোটের মূল্য কতটা থাকে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ পুনর্বহালের পক্ষেও মত দেন তিনি।
গোলটেবিল বৈঠকে আলোচক ও অতিথিরা। জাতীয় প্রেসক্লাবে, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ছবি: প্রথম আলো
আলোচনায় অতীতের কিছু ঘটনাও তুলে ধরেন সারা হোসেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা-কে জোরপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করার ঘটনার এখনও কোনো সুরাহা হয়নি। একইভাবে সাম্প্রতিক সময়েও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আপিল বিভাগের কয়েকজন বিচারককে পদত্যাগ করতে হয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু বিচারক দক্ষ ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও একটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত মামলার রায় দেওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক-কে ‘অযৌক্তিকভাবে’ একটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় জড়ানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ মামলায় এখনো কোনো অভিযোগপত্র দাখিল হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন। এতে আরও বক্তব্য দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আইনজীবী ইমরান সিদ্দিকী ও ফাহিম মাশরুর। সঞ্চালনা করেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।