দেশের অর্থনীতিকে একটি ‘নিম্নস্তরের ভারসাম্য’ (Low-level equilibrium) থেকে টেনে তুলতে আগামী দুই বছর বেশ কিছু কঠোর ও অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘কঠিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “একটি কঠিন অবস্থা থেকে বের হতে গেলে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যেগুলো হয়তো জনপ্রিয় নাও হতে পারে। তবে আমাদের লিডারশিপ এবং ক্যাপ্টেনের ভিশন সঠিক আছে। তিনি ন্যায়নীতি ও সততার অবস্থান থেকে কাজ করছেন।” দ্রুত না হলেও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অর্থনীতির বর্তমান চালচিত্র বোঝাতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী ২০০১-২০০৫ সালের বিএনপি আমলের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন। তিনি জানান:
বর্তমানে খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা অর্থনীতির গতিকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছে।
২০০৫ সালে খেলাপি ঋণের হার ছিল মাত্র ১৩ শতাংশ।
দেশের আর্থিক সক্ষমতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আলোচনায় বিএনপি নেতাদের ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ (Rescheduling) নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ কোনো নতুন বিষয় নয়, এটি বিশ্বজুড়ে প্রচলিত একটি ব্যাংকিং কালচার।
গত ১৭ বছরের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন:
“গত দীর্ঘ ১৭ বছরে বিএনপির ব্যবসায়ী নেতারা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করতে পারেননি। অনেকের লোনের স্যাংশন থাকা সত্ত্বেও অর্থ ছাড় করা হয়নি, ঋণের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। রাজনৈতিক কারণে অনেকের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, অনেক নেতাকে বাড়িছাড়া হতে হয়েছে অথবা জেলে থাকতে হয়েছে। জেলে বসে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অনেকের দল আছে যাদের ব্যাংকও আছে, কিন্তু বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই।”
অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে বিরোধী দলের সহায়তা কামনা করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “এটি দেশের স্বার্থে, সকলের স্বার্থে। অর্থনীতিকে তুলে আনতে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”