বিশ্বকাপে ৪০ বছরের গোলরক্ষকের ইতিহাস ও স্পেনের ২৫০০ পাসের ব্যর্থতা: মাঠ কাঁপাল কেপ ভার্দে - Uttorpatro TV বিশ্বকাপ ২০২৬: স্পেনের গোলখরা ও উরুগুয়ের রেকর্ড শটের রোমাঞ্চকর ড্র

বিশ্বকাপে ৪০ বছরের গোলরক্ষকের ইতিহাস ও স্পেনের ২৫০০ পাসের ব্যর্থতা: মাঠ কাঁপাল কেপ ভার্দে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: June 16, 2026
রদ্রিরা একের পর এক পাস করে গেলেও চূড়ান্ত ফল আসেনিএএফপি

চলতি বিশ্বকাপের পঞ্চম দিনটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ছিল এক চরম নাটকীয়তায় ভরপুর। কাগজে-কলমে র‍্যাঙ্কিংয়ের বিস্তর ব্যবধান থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে তা একদমই মুছে গিয়েছিল। শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে তথাকথিত ছোট দলগুলো। যার ফলে এই দিন অনুষ্ঠিত হওয়া ৪টি ম্যাচের প্রতিটিই ড্রয়ে রূপ নিয়েছে।

দিনের সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে নবাগত দেশ কেপ ভার্দে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে রুখে দিয়ে তারা গোলশূন্য ড্র আদায় করে নিয়েছে। অন্যদিকে, গোলবন্যার ম্যাচে ইরান ও নিউজিল্যান্ডের লড়াইটি ২–২ ব্যবধানে সমতায় শেষ হয়। এছাড়া বেলজিয়াম বনাম মিসর এবং সৌদি আরব বনাম উরুগুয়ের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচ দুটি ১–১ গোলে ড্র হয়েছে। এই ড্রয়ের ভিড়ে ফুটবল বিশ্ব সাক্ষী হয়েছে একাধিক ঐতিহাসিক এবং অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যানের।

পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসের হয়ে খেলা কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া এদিন এক অনন্য কীর্তি গড়েছেন। গত ৩ জুন জীবনের ৪০টি বসন্ত পার করা এই ফুটবলারের স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়। এত বেশি বয়সে বিশ্বমঞ্চে অভিষেক হওয়া ফুটবলারদের তালিকায় তিনি এখন দ্বিতীয় স্থানে। এই তালিকার শীর্ষে আছেন মিসরের কিংবদন্তি গোলরক্ষক এসাম এল-হাদারি, যিনি ২০১৮ বিশ্বকাপে ৪৫ বছর ১৬১ দিন বয়সে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছিলেন।

স্পেনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট লড়াই করেও কেপ ভার্দে পুরো ম্যাচে ফাউল করেছে মাত্র একটি! ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো দলের এত কম ফাউল করার নজির নেই। এর আগে ২০২২ সালে জার্মানির বিপক্ষে কোস্টারিকা এবং ১৯৭৪ সালে চিলির বিপক্ষে জার্মানি ৩টি করে ফাউল করেছিল।

অন্যদিকে, স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবালের জন্য ম্যাচটি ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। ২০২৪ ইউরো ফাইনালের এই গোলদাতা কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে একবারের জন্যও বল স্পর্শ করতে পারেননি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে কোনো ফরোয়ার্ডের ক্ষেত্রে এমন নিষ্ক্রিয় থাকার ঘটনা এটিই প্রথম।

কাতার বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে আলভারো মোরাতার ১১ মিনিটের গোলের পর থেকে বিশ্বকাপে স্পেনের গোলখরা যেন কাটছেই না। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তারা বিশ্বকাপে মোট ৪৯টি শট নিয়েছে এবং প্রায় আড়াই হাজার (২,৫০০) পাস সম্পন্ন করেছে, কিন্তু জালের দেখা পায়নি। গত বিশ্বকাপে মরক্কোর সাথে গোলশূন্য ড্রয়ের পর এবারও তারা শূন্য হাতে টুর্নামেন্ট শুরু করল।

সৌদি আরবের রক্ষণভাগকে নাচিয়ে ছেড়েছিল উরুগুয়ের ফরোয়ার্ডরা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্থেই তারা সৌদির গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ২২টি শট নেয়, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অর্ধে সর্বোচ্চ শট নেওয়ার অন্যতম রেকর্ড। এর আগে ১৯৭৪ সালে চিলির বিপক্ষে পূর্ব জার্মানি প্রথমার্ধে ২৪টি শট নিয়েছিল।

এদিকে, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১–১ ড্রয়ের দিনে নিজের ৩৪তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন মিসরীয় তারকা মোহাম্মদ সালাহ। জন্মদিনের দিনই গোল তৈরিতে (অ্যাসিস্ট) সরাসরি অবদান রেখে প্রথম আফ্রিকান ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। তবে এই ড্রয়ের ফলে মিসরের বিশ্বকাপ জয় অধরাই রয়ে গেল। ৮টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেও এখনো কোনো জয়ের মুখ দেখেনি তারা। তাদের ওপরে আছে কেবল হন্ডুরাস (৯ ম্যাচ)। একই দিনে নিউজিল্যান্ডও ৭ ম্যাচ খেলে জয়ের দেখা না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।