শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: লোকসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কমিটি - Uttorpatro TV শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে দিল্লি | ভারত-বাংলাদেশ খবর

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: লোকসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কমিটি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: July 31, 2026
ভারতের পার্লামেন্ট ভবনফাইল ছবি

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে ঢাকা থেকে যে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি লোকসভায় তাদের নবম প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান আইন ও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

২০২৪ সালের আগস্টে চরম জনরোষ ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর বাংলাদেশে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি ওঠে। পরবর্তীতে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া আরও বেগবান হয়।

পরবর্তী সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পরেও নয়া দিল্লির কাছে এই প্রত্যর্পণের দাবি বহাল রাখা হয়েছে। ঢাকা থেকে বারবার শেখ হাসিনাকে ফেরানোর জন্য ভারতের প্রতি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ভারতের সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতের দীর্ঘদিনের একটি মানবিক ও সভ্যতাগত ঐতিহ্য রয়েছে। যেকোনো সংকট বা অস্তিত্বের হুমকিতে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া সেই ঐতিহ্যেরই অংশ। শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে অবস্থান করতে দেওয়া ভারতের সেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক।

তবে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে সংসদীয় কমিটি। শেখ হাসিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ভার্চ্যুয়ালি দলীয় নেতাকর্মীদের বার্তা দেওয়া কিংবা গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় ভূমি ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে যে, ভারত সরকারকে অবশ্যই মানবিকতা ও নিজস্ব নীতি ধরে রাখতে হবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব ও সংবেদনশীলতার প্রতি নজর রেখে যেকোনো জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে ঢাকাকে ভারত সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া না হলেও বিষয়টি এখন দিল্লি সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন বলে স্পষ্ট করা হলো।