জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ছবি: বাসস
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের দীর্ঘদিনের গন্তব্য ছিল ভারত। তবে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে সেই ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রথমবারের মতো ১২ জন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা বর্তমানে পাকিস্তানে পেশাগত প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন, যা দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।
বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে উত্তরাখণ্ডের মুসৌরিতে অবস্থিত লাল বাহাদুর শাস্ত্রী রাষ্ট্রীয় প্রশাসন একাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতেন বাংলাদেশি কর্মকর্তারা। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের শীতলতা তৈরি হয়। ভিসানীতি ও চুক্তির মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতায় ভারতের সেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটেই কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের নতুন গন্তব্য হিসেবে পাকিস্তান সামনে আসে।

ছবিঃ সংগৃহীত
নেতৃত্ব ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে একজন অতিরিক্ত সচিব এবং ১১ জন যুগ্ম সচিবসহ মোট ১২ জনের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে লাহোরের সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে (সিএসএ) অবস্থান করছেন। গত ৪ মে শুরু হওয়া এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে ২১ মে পর্যন্ত। উল্লেখ্য, এই সফরের যাতায়াত ও আবাসনসহ যাবতীয় খরচ বহন করছে পাকিস্তান সরকার, যাতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাকিস্তান একাধিকবার প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিলেও তাতে সাড়া দেওয়া হয়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আসে এবং বর্তমানে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের আমলে সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে কর্মকর্তাদের পাকিস্তানে পাঠানো হলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ সফর নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি শক্তিশালী বার্তা।
পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার মধ্যেই ভারত পুনরায় বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (আইটিইসি)-এর অধীনে আবেদনের আহ্বান জানানো হলেও এর শর্তগুলো আগের চেয়ে কিছুটা জটিল। তবে দুই দেশের সঙ্গেই প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক মিল থাকায় কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশেই প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সাবেক আমলারা।
পরিশেষে, কর্মকর্তাদের এই বিদেশ সফর কেবল দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি নয়, বরং প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ফিরে আসার পর তাদের অর্জিত জ্ঞান দেশের মাঠ প্রশাসনে কতটা প্রয়োগ হচ্ছে, তার সঠিক মূল্যায়ন করাও জরুরি।