বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু স্থানীয় সরকার নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন বিএনপি এখন তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের ভিত্তি আরও সুসংহত করতে মরিয়া। দলটি মনে করছে, স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বড় জয় পাওয়া গেলে জাতীয় পর্যায়ের জনপ্রিয়তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সহজ হবে। আর এই লক্ষ্য পূরণে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে। সরকারের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলেই কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে। যদিও সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষিত হয়নি, তবে নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইসি সেরে রাখছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই সারা দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন তারা। বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের মতে, দলীয় প্রতীক না থাকলেও এই নির্বাচনকে তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনের ওপর ভিত্তি করেই তারা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চান।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে জয় নিশ্চিত করা গেলে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সরকারের বর্তমান অর্জনগুলো জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হবে। অন্যদিকের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যে কিছু জায়গায় প্রার্থী ঘোষণা করায় নির্বাচনী মাঠ এখনই বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে।
সংক্ষেপে, বিএনপি এই নির্বাচনকে নিজেদের জন্য একটি বড় ‘এসিড টেস্ট’ হিসেবে দেখছে। একদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করা, অন্যদিকে নির্দলীয় এই নির্বাচনে নিজেদের অনুসারী প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করা—এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ নিয়েই এগোচ্ছে দলটি।