যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই মেধাবী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। গত ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর জামিল আহমেদ লিমন (২৭) নামক এক শিক্ষার্থীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের বরাত দিয়ে বৃষ্টির পরিবার তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহত দুজনেই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (USF) শিক্ষার্থী ছিলেন। লিমন ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান এবং বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টির পুলিশ ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে লিমনের বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করে। অন্যদিকে, বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, পুলিশ তাঁদের কল করে বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
ছবি- অনলাইন থেকে সংগৃহীত
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে:
বৃষ্টির ফ্ল্যাটে পাওয়া রক্তের নমুনার সাথে তাঁর ডিএনএ (DNA) মিলেছে।
মরদেহ পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সন্দেহভাজন ঘাতক বৃষ্টির মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ (২৬) নামে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত হিশাম লিমনের রুমমেট ছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ তাঁকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ বা মোটিভ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
“আমার বোন আর নেই। পুলিশ জানিয়েছে তাকে রিকভার করা সম্ভব নাও হতে পারে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি দ্বিতীয় মরদেহটি নষ্ট করার চেষ্টা করছিল।” — জাহিদ হাসান প্রান্ত (বৃষ্টির ভাই)
লিমন ও বৃষ্টির এমন অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। জানা গেছে, এই দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং শিগগিরই তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এক নিমিষেই সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, তারা এখন লিমনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বৃষ্টির নিখোঁজ দেহের অবশিষ্টাংশ খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। স্থানীয় পুলিশ মামলাটির অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।