ভাঙ্গায় চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক দুই যুবককে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতা, ভিডিও ভাইরাল - Uttorpatro TV ভাঙ্গায় পুলিশের হেফাজত থেকে মুচলেকায় মুক্তি পেলেন দুই অভিযুক্ত চাঁদাবাজ

ভাঙ্গায় চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক দুই যুবককে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতা, ভিডিও ভাইরাল

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১৩, ২০২৬
চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক দুই ব্যক্তিকে এলাকার ছেলে পরিচয় দিয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা (বাঁ থেকে দ্বিতীয়)ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসস্ট্যান্ড ও টেম্পোস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক দুই যুবককে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা ওই যুবকদের ‘এলাকার ছেলে’ পরিচয় দিয়ে ওসির কক্ষ থেকে মুচলেকার মাধ্যমে ছাড়িয়ে নেন। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

আটক হওয়া দুই যুবক হলেন—ভাঙ্গা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর লিয়াকত মোল্লার ছেলে শোয়েব মোল্লা (২৯) এবং শাহী মুন্সির ছেলে সোহান মুন্সি (২৮)। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গা গোলচত্বর ও স্ট্যান্ড এলাকায় বিভিন্ন যানবাহন থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের কক্ষে বিএনপি নেতা আইয়ুব মোল্লা এবং অভিযুক্তদের অভিভাবকরা বসে আছেন। ভিডিওতে ওসিকে বলতে শোনা যায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। এসময় ওসির প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা আইয়ুব মোল্লা বলেন, “ওরা আমাদের এলাকার ছেলে… যদি ত্রুটিবিচ্যুতি করে থাকে, আমরা সংশোধন করার চেষ্টা করব।” একপর্যায়ে ওসির শর্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ করলে তার দায়ভার নেওয়ার মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা গণমাধ্যমকে জানান, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হয়তো অতিরঞ্জিত অভিযোগ দিয়ে তাদের ধরিয়ে দিয়েছিল। দলের কর্মী বা এলাকার ছেলে হিসেবে তিনি কেবল তাদের সংশোধনের সুযোগ চেয়েছেন।

অন্যদিকে, ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছোটখাটো চাঁদাবাজির অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছিল। বড় কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকায় স্থানীয় নেতার জিম্মায় এবং অভিভাবকের মুচলেকায় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে থানার ভেতরের ভিডিও কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলছে।

এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যদি অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, তবে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা থাকে।