দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বা ‘মব কালচার’ চিরতরে বন্ধ করতে বিদ্যমান আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আধুনিক অপরাধ যেমন—অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম ও মানি লন্ডারিং মোকাবিলায় সম্পূর্ণ নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর বিশেষ কল্যাণ সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরনেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতায় অপরাধীরা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। এসব নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে আরও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুয়া, অনলাইন বেটিং, সাইবার অপরাধ এবং অর্থপাচার (মানি লন্ডারিং) রোধে বর্তমান আইনগুলো যথেষ্ট নয়। তাই এসব অপরাধ কঠোরভাবে দমনে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের সুপারিশের ভিত্তিতে দ্রুতই নতুন আইন সংসদে উত্থাপন করা হবে।
মব কালচার বা গণপিটুনির মতো বিশৃঙ্খলা রুখতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনকে সংশোধন ও সংযোজন করে আরও যুগোপযোগী করা হচ্ছে যেন কেউ আইনের তোয়াক্কা না করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সাহস না পায়। তিনি পুলিশ বাহিনীকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশনা দেন।
বিগত দুই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর বিশেষ উপস্থিতিতে সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
বক্তারা সকলেই আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দেন। সরকার আশা করছে, প্রস্তাবিত নতুন আইনসমূহ কার্যকর হলে দেশের অপরাধ হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।