সিঁড়ি ছাড়াই দ্বিতল ভবন! রাজবাড়ীতে নতুন ভবনের সুফল থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা - Uttorpatro TV ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবন, অথচ ওপরে ওঠার সিঁড়ি নেই!

সিঁড়ি ছাড়াই দ্বিতল ভবন! রাজবাড়ীতে নতুন ভবনের সুফল থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৮, ২০২৬
ছবি- অনলাইন থেকে সংগৃহীত

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তালতলা সপ্তপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ে সিঁড়ি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে একটি দ্বিতল একাডেমিক ভবন। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনের দ্বিতীয় তলা ব্যবহারের কোনো সুযোগ পাচ্ছে না শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ভবনের অর্ধাংশ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম কক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম।

জানা গেছে, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে জেলা পরিষদ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (EED) অর্থায়নে বিভিন্ন ধাপে মোট ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এই একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের সর্বশেষ ধাপ ২০২১-২২ অর্থবছরে শেষ হলেও রহস্যজনকভাবে ভবনের দ্বিতীয় তলায় ওঠার জন্য কোনো সিঁড়ি রাখা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবেই সরকারি অর্থের এমন অপচয় হয়েছে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় কোনোমতে গাদাগাদি করে ক্লাস চললেও ওপরের তলাটি পুরোপুরি অকার্যকর। শুধু সিঁড়ির অভাবে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ভবনের আরও কিছু অবকাঠামোগত কাজও অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

নতুন ভবন হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বিদ্যালয়ের অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের জায়গা ও কক্ষের তীব্র সংকট রয়েছে। বর্তমানে নিচতলার একটি কক্ষেই বাঁশের চাটাই দিয়ে কৃত্রিম দেয়াল তৈরি করে একাধিক শ্রেণির পাঠদান চালানো হচ্ছে। এতে এক ক্লাসের শব্দের কারণে অন্য ক্লাসের মনোযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্বিতীয় তলাটি সচল থাকলে এই ভোগান্তি হতো না বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ বন্ধু রায় সরাসরি প্রকৌশলীর গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “সিঁড়ি ছাড়াই ভবন নির্মাণ করার ফলে দীর্ঘ চার বছর ধরে আমরা বড় ধরণের সমস্যায় আছি। সরকারের এত টাকা খরচ হলো, কিন্তু শিক্ষার্থীরা এর কোনো সুবিধাই পাচ্ছে না। আমরা লিখিতভাবে একাধিক দপ্তরে যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজ সম্পন্ন না করেই প্রকল্পের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তারা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

যোগাযোগ করা হলে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, মূলত বরাদ্দ বা অর্থ সংকটের কারণে সিঁড়ির কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি এবং খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভবনটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হলে এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত এই “সিঁড়িবিহীন ভবনে” সিঁড়ির সংযোজন ঘটে।