
বরুড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ড্রেজার ও ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবেশ, কৃষিজমি ও বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বরুড়া উপজেলার ১৫ নম্বর পয়ালগাছা ইউনিয়নের মগপুকুরিয়া গ্রামে মজুমদার বাড়ির পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন চালানো হচ্ছে। কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ্যে এই ড্রেজার কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, একটি প্রভাবশালী মহল উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম ভাঙিয়ে এই অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মগপুকুরিয়ার এই ড্রেজার কার্যক্রম যুবদল নেতা মনিরের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে, তবে তিনি প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার চলার ফলে পুকুরপাড় সংলগ্ন একাধিক বসতবাড়ি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, মাটির গঠন দুর্বল হয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— প্রশাসনের নাম ব্যবহার করলেই কি অবৈধ ড্রেজার বৈধ হয়ে যায়?
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করলেও কোনো সংবাদ প্রকাশ না করে ফিরে যান। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের প্রশ্ন— ‘পয়সা পেলে কি সবকিছু জায়েজ হয়ে যায়?’
এদিকে বরুড়া উপজেলার ১৩ নম্বর ইউনিয়নের শাপলোলা বাগানবাড়ির পশ্চিম পাশে কৃষিজমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
অন্যদিকে, ১৫ নম্বর পয়ালগাছা ইউনিয়নের শহীদ নগর বটতলী বাজারের পূর্ব পাশে ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া গেলে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানানো হলে পয়ালগাছা ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজটি বন্ধ করে দেন বলে জানা গেছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, পয়ালগাছা থেকে শহীদ নগর বটতলী এলাকায় যাতায়াতের পথেই মগপুকুরিয়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে অবৈধ ড্রেজার চললেও সেটি কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরে আসেনি? নাকি অন্য কোনো কারণে এই ড্রেজার কার্যক্রম উপেক্ষিত রয়েছে—এ নিয়ে এলাকায় নানা সন্দেহ ও আলোচনা চলছে।
এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরুড়া উপজেলার ১৪ নম্বর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নেও অবৈধভাবে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি ছাড়াই এসব ভেকু পরিচালিত হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
একাধিক ইউনিয়নে একইভাবে অবৈধ ড্রেজার ও ভেকু কার্যক্রম চলমান থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সব ধরনের অবৈধ ড্রেজার ও ভেকু বন্ধে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি—এখনই যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে ঘটে যাওয়া যে কোনো বড় দুর্ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না।