নরসিংদী শহরের চৌয়ালা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের চৌয়ালা এলাকার তালতলায় এ ঘটনা ঘটে। আহত দুজনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন চৌয়ালা এলাকার বিল্লাহ হোসেন (৩৮) ও ইয়াসিন মিয়া (৩৫)। তারা উভয়েই গোলাগুলির ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌয়ালা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে এই বিরোধকে ঘিরে উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে এক পক্ষের দুই সদস্য আহত হন। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে কী কারণে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরোধের সূত্র ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, তা বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি। ঘটনার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ঠিক কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আহতদের স্বজনদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার আগে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের বাগ্বিতণ্ডা বা পূর্ববিরোধের জের ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তির প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ১০ থেকে ১৫টি করে মামলা রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, গোলাগুলির ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং গোলাগুলির পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে।
পুলিশের এই বক্তব্যে আহত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর প্রকৃতি বা সেগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় প্রতিপক্ষ হিসেবে কারা অংশ নিয়েছিল, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
স্থানীয়দের মতে, চৌয়ালা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা আধিপত্য বিস্তারকেন্দ্রিক বিরোধের কারণে এলাকাটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ধরনের বিরোধের জেরে আবারও সংঘর্ষ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে গোলাগুলিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে গুলিবিদ্ধ বিল্লাহ হোসেন ও ইয়াসিন মিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে নরসিংদীর চৌয়ালা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে গোলাগুলির প্রকৃত কারণ, কারা গুলি চালিয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।