কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালে একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ সাত আসামিকে আদালতে হাজির করার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আদালতে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ পাওয়া সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ।
অন্য আসামিরা হলেন মেজর রুহুল আমিন, সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এসব আসামিকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। আদালতে তাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একরামুল হক হত্যা মামলায় গত ২৬ জুলাই শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একই সঙ্গে আসামিদের নির্ধারিত তারিখে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে পরবর্তী শুনানিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত কয়েকজন আসামি হাজির হলেও সাতজন আদালতে উপস্থিত হননি।
এর পরিপ্রেক্ষিতেই অনুপস্থিত সাত আসামিকে আদালতে হাজির করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার শুনানিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। এ ছাড়া আগে থেকেই গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহাবুব আলম এবং কর্নেল আনোয়ার লতিফকেও আদালতে হাজির করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনাসহ বাকি সাত আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার সূত্রে আলোচনায় থাকা একরামুল হক কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় তিনি নিহত হন। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে বন্দুকযুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে একরামুল হকের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়। বর্তমানে সেই মামলার বিচারিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সর্বশেষ আদেশের ফলে মামলাটিতে অনুপস্থিত আসামিদের আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের আদালতে হাজির হওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
আসামিদের মধ্যে যারা ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় রাখা হয়েছে। আর যারা এখনো আদালতে উপস্থিত হননি, তাদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার পথ খোলা থাকছে।
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ, আসামিদের আদালতে উপস্থিতি এবং পরবর্তী শুনানির ওপর এখন মামলার অগ্রগতি নির্ভর করবে।
এদিকে, একরামুল হকের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সর্বশেষ আদেশের মাধ্যমে অনুপস্থিত আসামিদের আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।