মহেশখালী ও আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যা, ‘নাশকতা-ষড়যন্ত্র’ বললেন রিজভী - Uttorpatro TV

মহেশখালী ও আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যা, ‘নাশকতা-ষড়যন্ত্র’ বললেন রিজভী

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: September 12, 2026

দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনাল এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাম্প্রতিক সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে একের পর এক কারিগরি ত্রুটি কেন হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রিজভী। সেখানে দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন তিনি।

রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় সেটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এটি মেরামতের চেষ্টা করছেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট নষ্ট হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় পরপর এমন সমস্যা দেখা দেওয়াকে স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, কোথাও একটি ইউনিট বন্ধ হচ্ছে, আবার কোথাও কারিগরি ত্রুটির কারণে কোনো স্থাপনা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

রিজভীর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এসব সমস্যার পেছনে কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একের পর এক কারিগরি ত্রুটি কেন দেখা দিচ্ছে এবং এর পেছনে কোনো ঘটনা, রহস্য, নাশকতা কিংবা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তবে এসব বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন না করে তিনি বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত ও প্রশ্ন তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে মূলত দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর স্থিতিশীলতা নিয়ে রাজনৈতিক ও জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়টি উঠে আসে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় গ্যাসের গুরুত্ব রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও এর প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাব দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতেও পড়তে পারে।

রিজভী আরও বলেন, সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা পরিশোধ করছে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যেসব চুক্তি রয়েছে, সেগুলোর আওতায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের পাওনাও পরিশোধ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরপরও কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বারবার সমস্যা দেখা দিচ্ছে, সেই প্রশ্ন মানুষের মনে তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বক্তব্যে দেশের চলমান সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের ব্যবস্থাপনা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে আসে। তাঁর মতে, অর্থ পরিশোধের পরও যদি সরবরাহে ধারাবাহিক বিঘ্ন ঘটে, তাহলে সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।

বিশেষ করে দেশের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ সরাসরি যুক্ত। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি বা সরবরাহে অনিয়ম হলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সেবাখাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে জ্বালানি অবকাঠামোর কারিগরি সক্ষমতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিয়ে নিয়মিত নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

আলোচনা সভায় দেশের চলমান বিভিন্ন সংকটের পাশাপাশি এসব সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। রিজভী তাঁর বক্তব্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা এবং ঝাড়খণ্ডের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটে ত্রুটির কারণে সরবরাহে যে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা যাতে বারবার না ঘটে, সে বিষয়ে কারণ অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন বিএনপির এই নেতা।

রিজভীর বক্তব্যের পর দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এসব সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাই চূড়ান্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সব মিলিয়ে, মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনাল বন্ধ থাকা এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটে সমস্যা—দুই ঘটনাকেই দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে পরপর কারিগরি ত্রুটির পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।