ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল তিউনিসিয়া ও তুরস্ক:আমাদের ঈদ কবে? - Uttorpatro TV শুরু হচ্ছে পবিত্র জিলহজ মাস, তিউনিসিয়া ও তুরস্কে কোরবানির ঈদের দিনক্ষণ চূড়ান্ত

ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল তিউনিসিয়া ও তুরস্ক:আমাদের ঈদ কবে?

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১৭, ২০২৬
গতকাল শনিবার পবিত্র জিলকদ মাসের ২৯তম দিনে তিউনিসিয়া কর্তৃপক্ষ দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র জিলহজ মাস শুরু ও ঈদুল আজহা উদ্‌যাপনের তারিখ ঘোষণা করেছবি: অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের এক্স অ্যাকাউন্ট

বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। বৈশ্বিক এই উৎসবের আবহ তৈরিতে এবার সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে উত্তর আফ্রিকা ও ইউরেশিয়ার দুই মুসলিম প্রধান দেশ তিউনিসিয়া এবং তুরস্ক। দেশ দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র জিলহজ মাস শুরুর তারিখ এবং সেই সঙ্গে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপনের চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, তিউনিসিয়া ও তুরস্কে আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র জিলহজ মাস। আর এই হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৭ মে (বুধবার) দেশ দুটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা বা ১০ই জিলহজ উদ্‌যাপিত হবে।

প্রতি বছরই জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা এবং ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ নিয়ে বিশ্ব মুসলিমের নজর থাকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। তবে এবার সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথম দেশ হিসেবে কোরবানির ঈদের তারিখ ঘোষণা করেছে তিউনিসিয়া। গত শনিবার (১৬ মে) ছিল দেশটিতে পবিত্র জিলকদ মাসের ২৯তম দিন। ওই দিন সন্ধ্যায় তিউনিসিয়ার ধর্মীয় ও জ্যোতির্বিদ্যাসংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ সে দেশে জিলহজ মাস শুরু ও ঈদুল আজহা উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণাকারী প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে নাম লেখাল তিউনিসিয়া।

তিউনিসিয়ার পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত শক্তিশালী মুসলিম দেশ তুরস্কও আগামীকাল সোমবার থেকে তাদের দেশে পবিত্র জিলহজ মাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তবে তুরস্কের এই তারিখ নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভিন্ন। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো খালি চোখে বা আধুনিক দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে আকাশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে হিজরি মাসের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তুরস্ক সরাসরি চাঁদ দেখার প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে সম্পূর্ণ আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যাভিত্তিক হিসাব-নিকাশ (Astronomical Calculations) অনুসরণ করে থাকে। এই বৈজ্ঞানিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা নিজস্ব ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তুরস্ক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যার ফলে, চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই তারা নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ২৭ মে দেশটিতে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে।

তিউনিসিয়া ও তুরস্ক অগ্রিম ঘোষণা দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুই দেশ সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)সহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো জিলহজের চাঁদ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী, জিলকদ মাসের ২৯ বা ৩০ তম দিনে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওমান, কাতার, কুয়েতসহ বেশিরভাগ মুসলিম দেশের কর্তৃপক্ষ আজ রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার জন্য বৈঠকে বসবে। আজ চাঁদ দেখা গেলে সোমবার (১৮ মে) থেকে সেখানে জিলহজ মাস শুরু হবে এবং আগামী ২৬ মে আরাফাহর দিন ও ২৭ মে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। আর আজ চাঁদ দেখা না গেলে জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে, সে ক্ষেত্রে ঈদ একদিন পিছিয়ে ২৮ মে হতে পারে।

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত বরকতময় এবং ফজিলতপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মাসেই বিশ্বের লাখ লাখ মুসলমান পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য মক্কায় সমবেত হন। তিউনিসিয়া ও তুরস্কের এই আগাম ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে কোরবানির পশুর হাট এবং ঈদের কেনাকাটার প্রস্তুতি আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী ও গ্লোবাল ট্রাভেলারদের জন্য ঈদের ছুটি ও ভ্রমণের পরিকল্পনা সাজাতে এই ঘোষণা বেশ সাহায্য করবে। এখন এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারতসহ অন্যান্য দেশের মুসলিমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নিজ নিজ দেশের চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের জন্য।