নারীদের ওপর হামলাকারীরা কাপুরুষ, বাঁধনের ওপর হামলা ঘৃণ্য অপরাধ - Uttorpatro TV

নারীদের ওপর হামলাকারীরা কাপুরুষ, বাঁধনের ওপর হামলা ঘৃণ্য অপরাধ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: September 9, 2026
ছবিঃ সংগৃহীত

নারীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, যারা নারীদের ওপর আক্রমণ করে তারা কাপুরুষ। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগকে তিনি একটি ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রুহুল কবির রিজভী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, নারীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন নারীকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা শুধু ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং এটি সমাজের জন্যও একটি গুরুতর বার্তা বহন করে। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ঘটনাটি একটি ঘৃণ্য অপরাধ। তার বক্তব্যে নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কারও ওপর হামলা বা শারীরিকভাবে আক্রমণ করার সুযোগ নেই।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রিজভী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নারীদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতন, লাঞ্ছিত ও অপমানের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, সেই নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল প্রতিবাদ করেছে।

রিজভীর বক্তব্যে রাজনৈতিক আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে নারীরা রাজনৈতিক ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন, তাদের অনেকে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করা নারীদেরও নিপীড়ন করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নারী ও অন্যান্য নাগরিকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হয়রানি করা হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন রুহুল কবির রিজভী। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন তিনি।

জ্বালানি সংকট সম্পর্কে রিজভী বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। তার মতে, এককভাবে কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে এই সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থা সম্পর্কিত হওয়ায় বিভিন্ন দেশকেই এর প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের গ্যাসের সংকট ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে আসবে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এর প্রভাব দেশের বিভিন্ন খাতেও পড়বে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন। দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে রিজভীর বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কর্মকাণ্ডও গুরুত্ব পায়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে তিনি নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় সংগঠনটির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব ও নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন, সামাজিক কর্মসূচি এবং দলীয় কার্যক্রমে নারীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আসছেন। ফলে নারী নির্যাতন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোও রাজনৈতিক বক্তব্যে নিয়মিতভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে ইতালিতে আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়ে রিজভীর বক্তব্যটি তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে দেওয়া মন্তব্য হিসেবে এসেছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল, তা সংশ্লিষ্ট তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে রিজভীর বক্তব্যে একদিকে নারীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে, অন্যদিকে দেশের জ্বালানি সংকট ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়েও বিএনপির অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুগুলোও তার বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।

নারীর নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে রিজভীর বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়ে তার দেওয়া বক্তব্যও আলোচনার অংশ হয়েছে।