এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ চান জামায়াত, ইসি সচিবের নিয়োগ বাতিলের দাবি - Uttorpatro TV এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ও ইসি সচিবের নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ চান জামায়াত, ইসি সচিবের নিয়োগ বাতিলের দাবি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: July 29, 2026
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধিদল বুধবার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব পেশ করে দলটি। এর মধ্যে প্রধান দুটি দাবি হিসেবে স্থান পেয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ প্রদান এবং নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিবের বিতর্কিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল।

বুধবার সকাল ১১টার দিকে শেরেবাংলা নগরের নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কমিশনের সঙ্গে এ আলোচনায় অংশ নেয়।

বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন কমিশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় নিয়োগের সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, এক রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারণী পদে থাকা একজন ব্যক্তিকে সম্প্রতি এই সাংবিধানিক সংস্থায় অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জামায়াত নেতৃত্বের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি দলকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং পছন্দসই প্রার্থীদের জয়ী করার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কমিশন এ বিষয়ে তাদের একপ্রকার অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে ওই কর্মকর্তার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে আগে তাঁদের স্পষ্ট জানা ছিল না, সম্প্রতি গণমাধ্যমের সূত্র ধরে তা তাঁরা অবহিত হয়েছেন।

স্থানী সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করেছে জামায়াতে ইসলামী। মিঞা গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণের এক দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। অথচ রাজনৈতিক দল কিংবা শিক্ষক সমাজ—কোনো অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা না করেই কমিশন একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।

ইসির পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, শিক্ষকরা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও পাঠদান ব্যাহত হতে পারে। এর জবাবে জামায়াত নেতা বলেন, সংবিধানের ২৬ ও ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের রাজনীতি করার এবং অধিকার পাওয়ার পথ সুগম রাখা প্রয়োজন। রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করে শিক্ষকদের নির্বাচনে লড়ার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে কিংবা প্রচলিত সন্ত্রাসী বিরোধী আইনের মাধ্যমে যেসব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই সব দলের কোনো স্তরের পদধারী ব্যক্তি যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন—সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

গোলাম পরওয়ার জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতি পরিচালিত হয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে। ফলে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের পদে থেকে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাও এক ধরনের পরোক্ষ রাজনীতি। নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই ফাঁকফোকরগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি।

সামগ্রিকভাবে, জামায়াতের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনকে একটি অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও বিতর্কমুক্ত নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরি করতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে জোর তাগিদ দেয়।