বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের নির্মম মারধরে হালিম হাওলাদার (৬৫) নামে এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ও স্থানীয় ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হেলেঞ্চা গ্রামের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের কাছে দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বরিশাল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুনবী সুমন হাওলাদার। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেলোয়ারের বড় ভাই হালিম হাওলাদারকে বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুর্নীতি প্রতীকী ছবি
ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন জানান, গত ১০ মে মাহমুদুনবী সুমন তার কয়েকজন সহযোগীসহ আকস্মিকভাবে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চড়াও হয় এবং পুনরায় চাঁদা দাবি করে। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং ভাইয়ের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে হালিম হাওলাদার সে সময় তার পকেটে থাকা নগদ ৩ হাজার টাকা সুমনকে দেন। তবে এই সামান্য টাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে চাঁদাবাজ চক্রটি। বাকি টাকা দ্রুত পরিশোধ না করলে এর পরিনতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
চাঁদাবাজদের অনবরত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল ভুক্তভোগী পরিবারটি। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ১৪ মে রাতে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী হালিম হাওলাদার। থানায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা।
অভিযোগের জের ধরে শুক্রবার দুপুরে ছাত্রদল নেতা সুমনের নেতৃত্বে সোহাগ মোল্লা, কালাম হাওলাদার, উজ্জ্বল হাওলাদার, আবুয়াল হোসেন আউয়াল ও ফোরকানুল আলম লিখনসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেলোয়ার হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দোকানে ঢুকেই ভাঙচুর শুরু করে এবং বৃদ্ধ হালিম হাওলাদারকে লক্ষ্য করে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বড় ভাইকে বাঁচাতে ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে গুরুতর জগত করা হয়। হামলাকারীদের তাণ্ডবে আরও কয়েকজন সাধারণ মানুষ আহত হন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় হালিম হাওলাদারকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওসি আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কালাম হাওলাদার ও উজ্জ্বল হাওলাদার নামে দুইজনকে আটক করেছে। মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। এই ঘটনায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।