ছবিঃ সংগৃহীত
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে বিরোধীদের ‘অপপ্রচার’ এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় এবার সরাসরি মাঠপর্যায়ে নামার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। বর্তমান ক্ষমতাসীন এই দলটি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব জেলা, মহানগর এবং দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কর্মসূচি পালন করতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির নিজস্ব কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলো পূরণ করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সরকার যখন রাষ্ট্র সংস্কারে কাজ করছে, তখন একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে দাবি করছে বিএনপি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল জানান, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে যে সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, বিএনপি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশেষ করে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে দলের অবস্থান জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। এই উদ্দেশ্যে বিশেষ লিফলেট তৈরি করে জেলা ও মহানগরে পাঠানো হয়েছে, যা সারা দেশে বিতরণ করা হবে।
লিফলেটে গণভোটের কয়েকটি প্রশ্নের অসংগতি তুলে ধরেছে বিএনপি। এতে বলা হয়েছে, গণভোটের ‘খ’ নম্বর প্রশ্নটি জুলাই সনদের ১৮ ও ১৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি এবং এটি মূলত একটি ‘প্রতারণামূলক’ প্রশ্ন। এছাড়া সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন করার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে, যা বিরোধীরা ইতোমধ্যেই লঙ্ঘন করেছে বলে বিএনপির দাবি।
আগামী এক মাস ধরে বিএনপি সারা দেশে ধারাবাহিক এই কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে রয়েছে উঠান বৈঠক, পথসভা, লিফলেট বিতরণ, মতবিনিময় সভা এবং মিছিল। জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সব নেতাকর্মীকে এই কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, যেসব এলাকা এই কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন এবং বিএনপিকে ‘সংস্কারবিরোধী’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টার প্রেক্ষিতেই এই পাল্টা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতাদের দাবি, নির্বাচনে জয়ী দল তাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়ন করবে—এটিই নিয়ম। এছাড়া হাম পরিস্থিতি বা স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা নিয়ে বিরোধীদের প্রচারণাকে ‘ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে বিএনপি বলছে, আগের সরকারের রেখে যাওয়া স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে সরকার দ্রুত টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহে কাজ করছে। মূলত জনগণের সামনে সরকারের স্বচ্ছতা তুলে ধরাই বিএনপির এই নতুন সফরের প্রধান লক্ষ্য।