নেত্রকোনার পূর্বধলায় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর হামলা, তাঁর ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর এবং কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের আতকাপাড়া এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল পর্যন্ত ফিলিং স্টেশনটি স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ করছিল। সন্ধ্যার দিকে এমপি ব্যক্তিগত গাড়িতে সেখানে যান এবং পাম্প মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি নামাজ আদায়ের জন্য কাছাকাছি একটি কক্ষে যান। এ সময় হঠাৎ করে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে একদল যুবক এসে জ্বালানি নিতে চায়। পাম্প বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়।
এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ওই যুবকদের একটি অংশ এমপির গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। নামাজ শেষে বাইরে বের হলে এমপি মাছুম মোস্তফাকে ঘিরে ফেলে তারা, ফলে তিনি কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েন। তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মী-সমর্থকেরাও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংসদ সদস্যের দাবি, হামলায় জড়িতরা স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী। তিনি বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল এবং তাঁকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।
নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা ছবি: সংগৃহীত
ঘটনাস্থলে আগে থেকেই কয়েকজন পুলিশ সদস্য থাকলেও তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে প্রায় আধা ঘণ্টা পর এমপিকে উদ্ধার করে। তাঁকে উপজেলা প্রশাসনের গাড়িতে করে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে দলীয় কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা নেই এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে তা তারা জানেন না।
এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জেলা জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলেছেন, এটি একটি নিন্দনীয় ঘটনা এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন ঘটনা এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৫ আসন থেকে মাছুম মোস্তফা বিজয়ী হন।