
জ্বালানি তেল নিতে দীর্ঘ সারি- রাকিব হাসান
দেশে অকটেনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি বেড়েছে। যদিও চলতি মাসের শুরুতেই একটি জাহাজে অকটেন এসেছে এবং আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে, পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনও বেড়েছে—তবুও বাজারে প্রত্যাশিত সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহ পরিচালনা করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মার্চে প্রতিদিন গড়ে ১,১৯৩ টন অকটেন বিক্রি হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে এই সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও এপ্রিল মাসে তা আবার কমে গেছে। গত মাসের তুলনায় এ মাসে দৈনিক বিক্রি কমেছে প্রায় ৮৩ টন।
পেট্রলপাম্প মালিকদের মতে, বর্তমানে পেট্রল ও অকটেনের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই চাপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। তাদের দাবি, সরবরাহ বাড়ানো না হলে ভিড় কমানো সম্ভব নয়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবেও জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলার পর থেকেই তেল সংকটের আশঙ্কায় মানুষ বেশি করে জ্বালানি কিনতে শুরু করে। এতে মার্চের শুরুতে পেট্রল ও অকটেনের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সাময়িকভাবে রেশনিং চালু করলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু সরবরাহ আগের বছরের গড়ের ভিত্তিতেই দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক পাম্প প্রতিদিন জ্বালানি পাচ্ছে না এবং ভিড় বাড়ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং মজুত বাড়ানো হচ্ছে। তবে আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা বন্ধ না হলে ভোগান্তি কমবে না।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৭ দিনের অকটেন মজুত রয়েছে। চলতি মাসে আরও ৩০ হাজার টন অকটেন আমদানির কথা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ বাড়ানো এবং সঠিকভাবে বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা সম্ভব।
জ্বালানিবিশেষজ্ঞ ম তামিম মনে করেন, বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে সব পাম্পে সমানভাবে তেল বিতরণ করলে নির্দিষ্ট কিছু স্টেশনে অতিরিক্ত চাপ কমবে।