ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

দেশের প্রশাসনিক মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের পাশাপাশি নতুন করে আরও পাঁচটি উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ (নিকার)-এর ১২০তম সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো অনুমোদন করা হয়।
বগুড়া পৌরসভার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমে এটি দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বগুড়ার এই নতুন মর্যাদার ফলে জেলাটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিকারের সভায় শুধু সিটি করপোরেশনই নয়, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে পাঁচটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে বর্তমানে উপজেলার সংখ্যা ৪৯৫ থেকে বেড়ে ৫০০-তে উন্নীত হলো।
নতুন গঠিত উপজেলাগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
মোকামতলা: বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলাকে বিভক্ত করে এই নতুন উপজেলাটি গঠন করা হয়েছে।
মাতামুহুরী: কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার একটি অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছে মাতামুহুরী উপজেলা।
রুহিয়া ও ভুল্লী: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে ভেঙে রুহিয়া ও ভুল্লী নামে দুটি পৃথক উপজেলা গঠন করা হয়েছে।
চন্দ্রগঞ্জ: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে ভাগ করে নতুন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা আরও সহজলভ্য করা। বড় উপজেলাগুলোকে ভেঙে ছোট করার ফলে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ বাড়ির কাছেই উপজেলা পর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিকারের এই অনুমোদনের পর এখন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সীমানা নির্ধারণ ও গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় এবং নতুন উপজেলাগুলোতে প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপনের খবরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে এই সিদ্ধান্তগুলো দেশের সুষম উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।