পাবনাবাসীর স্বপ্নপূরণ: আগস্টেই নামছে পাবনা-ঢাকা সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন - Uttorpatro TV আগস্ট থেকেই চলবে পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেন: রেল ও সেতুমন্ত্রী

পাবনাবাসীর স্বপ্নপূরণ: আগস্টেই নামছে পাবনা-ঢাকা সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: June 20, 2026
পাবনা সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ শনিবার দুপুরে ছবি: হাসান মাহমুদ

পাবনা জেলার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের রাজপথের দাবি ও লালিত স্বপ্নের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী আগস্ট মাস থেকেই পাবনা থেকে রাজধানী ঢাকায় সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হবে। একই সাথে ঢাকা-খুলনা রুটেও নতুন আরেকটি ট্রেন চালু করার জোর প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার দুপুরে পাবনা সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই সুখবর জানান রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সরকারের এই সিদ্ধান্তে পাবনা অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

পাবনা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে বিশ্বাসী। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের আগস্ট মাসেই রেলওয়েতে দুটি নতুন রুট যুক্ত হতে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন,

“আমরা আগস্ট মাসকে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। এই সময়ে দুটি রুটে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে চালু হবে পাবনাবাসীর কাঙ্ক্ষিত পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেন। এবং এর ঠিক পরপরই চালু করা হবে ঢাকা-খুলনা সরাসরি ট্রেন। এই প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে আমাদের লোকোমোটিভ বা রেল ইঞ্জিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাত্রী সেবার মান বাড়াতে খুব দ্রুতই আধুনিক নতুন কোচ বা বগি দেশে এসে পৌঁছাবে।”

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ১৬ মে দায়িত্ব গ্রহণের পর পাবনার সন্তান ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠের এক গণসংবর্ধনায় তিন মাসের মধ্যে এই ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে নানা প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতায় সে সময় তা আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমান মন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট ঘোষণা সেই অপূর্ণতাকে এবার পূর্ণতায় রূপ দিতে যাচ্ছে।

পাবনার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে কাজীরহাট ফেরিঘাট স্থানান্তর ও এর আধুনিকায়নের দাবি দীর্ঘদিনের। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কাজ চলছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, “কাজীরহাট ফেরিঘাট স্থানান্তরের প্রাথমিক কার্যক্রমগুলো ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) এবং ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রণয়নের কাজ শেষ। যেহেতু এর সাথে বৃহত্তর পাবনাবাসীর জনস্বার্থ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি জড়িত, তাই বর্তমান সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।”

সড়ক ও পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য এবং বিশৃঙ্খলা দূর করার বিষয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সড়ক বা পরিবহন খাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

পরিবহন সেক্টরের শৃঙ্খলা ফেরানো প্রসঙ্গে সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই মন্ত্রী বলেন, “আমরা মালিক বা শ্রমিক—কাউকে একে অপরের প্রতিপক্ষ বানাতে চাই না। সবাইকে সাথে নিয়ে, একটি সমন্বিত ও সুশৃঙ্খল উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। এখানে কোনো বিশেষ শ্রেণী বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে লালন করা হবে না। আমাদের কাছে কেবলই সাধারণ মানুষের স্বার্থ এবং যাত্রী নিরাপত্তাই শেষ কথা।”

শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় মন্ত্রীর সাথে পাবনা জেলার একঝাঁক রাজনৈতিক নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মন্ডল এবং পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আরেফা সুলতানা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মন্ত্রীর এই ঘোষণা পাবনার সামগ্রিক অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।