রংপুর প্রতিনিধি: ভারতীয় দুই নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশি জন্মসনদ প্রদান এবং জালিয়াতির মাধ্যমে মৃত্যুসনদ ইস্যু করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র উত্তম কুমার সাহার বিরুদ্ধে। শতকোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে বদরগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেখিয়ে মনোজ কুমার সাহা (ওরফে রানা) ও রাজীব কুমার সাহা নামের দুই সহোদরকে জন্মসনদ প্রদান করা হয়। প্রকৃতপক্ষে এই দুই সহোদর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাকপুরের স্থায়ী বাসিন্দা এবং তারা ভারতীয় পাসপোর্টধারী। তাদের মা আরতী রাণী সাহা কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেও একই তারিখ ব্যবহার করে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি বদরগঞ্জ পৌরসভা থেকে তার নামে একটি ভুয়া মৃত্যুসনদ ইস্যু করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, বদরগঞ্জ পৌর শহরের কেন্দ্রস্থলে রাজকুমার সাহার প্রায় শতকোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতেই সাবেক মেয়র উত্তম কুমারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই জালিয়াতি করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই অবৈধ কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে চারবারের এই সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত বছরের ১২ নভেম্বর এবং তারও আগে ২০২৩ সালের জুনে দুদকের রংপুর জেলা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন প্রদীপ কুমার সাহা নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা। প্রদীপ কুমার অভিযোগ করেন:
“উত্তম কুমার সাহা একজন দুর্নীতিবাজ মেয়র ছিলেন। তার সময়ে নিয়োগ বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়ম চরম আকার ধারণ করেছিল। তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ দিলেও অদৃশ্য কারণে তদন্তে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। বরং প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক মেয়র উত্তম কুমার সাহা দাবি করেন, ওই ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিক নন। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দেওয়া রেফারেন্সের ভিত্তিতেই এই সনদ দেওয়া হয়েছে। তবে নথিপত্র পর্যালোচনায় ১৯৯৫ সালের সেই সনদের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শাওন মিয়া জানান, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশি জন্মসনদ প্রদান কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বদরগঞ্জবাসী।