মধ্যরাতে রুয়েটে উত্তেজনা: প্রকাশ্য ও গুপ্ত রাজনীতির বিরোধিতায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ - Uttorpatro TV

মধ্যরাতে রুয়েটে উত্তেজনা: প্রকাশ্য ও গুপ্ত রাজনীতির বিরোধিতায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২৭, ২০২৬
রুয়েটে দেয়াললিখন ও ব্যানার পোড়ানো ঘিরে মধ্যরাতে উত্তেজনা তৈরি হয়। গতকাল রোববার রাত দেড়টার দিকে ছবি: প্রথম আলো

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও দেয়াললিখন ও ব্যানার পোড়ানোকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে একদল শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার রাত দেড়টার দিকে বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের সামনে পৌঁছালে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। এ সময় হলের ভেতরে থাকা ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা দলীয় স্লোগান দিতে শুরু করলে মিছিলে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে পাল্টা স্লোগান দেন। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলা এই পাল্টাপাল্টি স্লোগানে ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রাত দুইটার দিকে মিছিলটি সেখান থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

ক্যাম্পাসের প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনার পর রুয়েট ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে ‘গুপ্ত রাজনীতির’ বিরুদ্ধে দেয়াললিখন করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বিকেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রকাশ্য ও গুপ্ত—উভয় ধরনের রাজনীতির বিরোধিতা করে পাল্টা দেয়াললিখন করেন এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একটি প্রতিবাদী ব্যানার টাঙান।

অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী সেই ব্যানারটি খুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার খবর ‘রুয়েট জাতীয়তাবাদী স্পন্দন’ নামক একটি ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে, যা পরবর্তীতে মধ্যরাতের বিক্ষোভে রূপ নেয়।

রুয়েটে আগে থেকেই শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক রবিউল ইসলাম সরকার বলেন:

“ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ৫ আগস্টের পর এখানে কোনো রাজনৈতিক কমিটি দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু কার্যক্রমের খবর আসায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং বিধিবহির্ভূত কিছুর প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বর্তমানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে ক্যাম্পাসে ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির পুনরাবৃত্তি চান না। এই দাবিতে আজ সোমবার দুপুরে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, রুয়েটে ছাত্রদল প্রকাশ্যে কমিটি দেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের লেজুড়বৃত্তি রাজনীতির পক্ষে নেই।

বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আবাসিক হলগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।