
তিন ইউনিয়নে ফসলি জমি ধ্বংস—রাতভর ট্রাকের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ জনতা
দু’বার সংবাদ হওয়ার পরও থামেনি সিন্ডিকেট, প্রশাসনের নীরবতায় চরম ক্ষোভ**
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় অবৈধ ভেকু ও ড্রেজার দিয়ে রাতের অন্ধকারে মাটি কাটা এখন প্রকাশ্য দৌরাত্ম্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ—আগে দুইবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় আরও বর্বর হয়ে উঠেছে মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।
ফলে আদ্রা, লক্ষীপুর ও পয়ালগাছা—এই তিন ইউনিয়নের ফসলি জমি, সড়ক এবং জনজীবন পড়েছে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে।
রাতভর ড্রাম ট্রাকের গর্জন, কম্পন, ধুলা ও ধোঁয়ায় ছোট শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ—
“ঘুমানোর উপায় নেই, জমি নষ্ট হচ্ছে—কিন্তু প্রশাসন নীরব!”
পেরপেটি থেকে শাপলোলা সড়কের পূর্ব পাশে বিএনপি নেতা আজাদের নেতৃত্বে চলছে ব্যাপক মাটি উত্তোলন।
দিনে এলাকা শান্ত—রাতে সারি সারি ট্রাক।
নোয়াগাঁও ব্রিকস প্লিটের দক্ষিণ পাশে ড্রেজারের কর্ণবিদারক শব্দে বহু মানুষ রাত জাগছেন বাধ্য হয়ে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে—
আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা আমান ৫ আগস্টের আগে–পরে হঠাৎ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ড্রেজার ব্যবসায় নাম লেখান।
তাদের অভিযোগ—
“রাজনীতি বদলেছে, কিন্তু উদ্দেশ্য এক—লাখ লাখ টাকা হাতানো।”
কৃষকদের অভিযোগ—
১৪ শতাংশ আবাদি জমির ৬ শতাংশ গভীরভাবে কেটে ফেলা হয়েছে।
আরও কয়েকদিন এভাবে চললে জমি পুরোপুরি অচাষযোগ্য হয়ে পড়বে।
এক কৃষকের আর্তি—
“জমি কেটে নিল—এখন আমরা চাষ করব কী দিয়ে?”
নোয়াপাড়া গ্রামে বহুদিন ধরে চলছে রাতভর ভেকু দিয়ে মাটি কাটার হিড়িক।
স্থানীয়দের ভাষায়—
“দিনে সব থেমে থাকে, রাতে শুরু হয় আসল খেলা।”
পেড্ডা গ্রামে ভাউকসার–মুদাফরগঞ্জ সড়কের পাশে ড্রেজার দিয়ে নির্বিচারে মাটি কাটা হচ্ছে।
ফলে সড়ক যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।
স্থানীয়রা সতর্ক করে বলেন—
“একটি দুর্ঘটনা পুরো গ্রামের জীবন কেড়ে নিতে পারে।”
তিন ইউনিয়নে একই অপরাধ, একই পদ্ধতি, একই সিন্ডিকেট—
তবুও এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযান নেই, নেই আইন প্রয়োগের দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
মানুষের প্রশ্ন—
“সংবাদ হয়, ভিডিও ভাইরাল হয়—তবুও ব্যবস্থা নেই কেন?”
রাতভর সকল অবৈধ মাটি উত্তোলন তাৎক্ষণিক বন্ধ
জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও জমির জরুরি পুনর্বাসন
নিয়মিত মনিটরিং টিম গঠন
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান
বরুড়ায় অবৈধ ভেকু–ড্রেজার সিন্ডিকেট এখন যেন অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় চলছে।
জমি, সড়ক, পরিবেশ ও মানুষের জীবন হুমকির মুখে।
তাই জরুরি ভিত্তিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপ না হলে তিন ইউনিয়নে যে বিপর্যয় নেমে আসছে—
তা আর রোধ করা যাবে না।