পদত্যাগের দ্বারপ্রান্তে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন: নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশনে - Uttorpatro TV রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন: সেপ্টেম্বরে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রস্তুতি

পদত্যাগের দ্বারপ্রান্তে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন: নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশনে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: July 24, 2026
ছবি: সংগৃহীত

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও এক বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রের ভিত্তিতে জানা গেছে, বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি যেকোনো সময় পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আগামী সেপ্টেম্বরে বসতে যাওয়া জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।

সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির দায়িত্বভার কার ওপর ন্যস্ত হবে—তা নিয়ে বঙ্গভবন থেকে শুরু করে রাজনীতির নীতিনির্ধারণী মহলে চলছে জোর হিসাব-নিকাশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির পদ খালি হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং কে হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান, তা নিয়ে বিভিন্ন স্তরে বৈঠক ও আলোচনা চলছে।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি যদি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করতে চান, তবে তাকে স্পিকারের উদ্দেশ্যে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ব্যক্তিগত চিকিৎসার কাজে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচির দুই দিন আগেই তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন, যা রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের জল্পনা-কল্পনাকে আরও বেগবান করেছে।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী:

  • ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি পদে শূন্যতা তৈরি হলে বা পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

  • নির্বাচনের সময়সীমা: পদ খালি হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ কর্তৃক নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হতে হবে।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মূল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

বঙ্গভবনের নির্ভরযোগ্য বেশ কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতিমধ্যে বিদায় নেওয়ার মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন। এমনকি পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে, যেখানে কেবলমাত্র তাঁর স্বাক্ষর ও স্পিকারের নিকট হস্তান্তর বাকি। স্পিকার দেশে উপস্থিত না থাকায় এই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এতদিন পিছিয়ে ছিল বলে জানা যায়।

ইতিমধ্যে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব কর্মচারীরা তাঁদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে শুরু করেছেন। এমনকি চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ার বিষয়ে অধস্তন কর্মীদের মৌখিক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। পদত্যাগ পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু শারীরিক অসুস্থতা নয়—এর পেছনে কিছু গোপনীয় কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণও বিদ্যমান। চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসা নিতে লন্ডনে যাওয়ার পর সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন ফোনালাপের একটি তথ্য গোয়েন্দা তথ্যে উঠে আসে। উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বছরের শেষদিকে দেশে ফেরার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে এই যোগাযোগের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই সমস্ত সমীকরণ মিলিয়ে সরকারও মনে করছে যে, রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনকে দায়িত্বে রাখা আর সমীচীন হবে না।

যদিও বঙ্গভবন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন তুঙ্গে, তবুও এখন পর্যন্ত সরকারের কিংবা রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন সময়ে তিনি মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই অব্যাহতি নেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। সর্বশেষ এক বক্তব্যে তিনি জানান, সরকার চাইলে তিনি স্বপদে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যদি রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘটনা ঘটে, তবে তা হবে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই নজর দেশবাসীর।