ঈদে দোকান ও শপিং মল খোলা থাকবে রাত ১০টা পর্যন্ত, জারি নতুন প্রজ্ঞাপন - Uttorpatro TV রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা যাবে: মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত

ঈদে দোকান ও শপিং মল খোলা থাকবে রাত ১০টা পর্যন্ত, জারি নতুন প্রজ্ঞাপন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১২, ২০২৬
ছবি- উত্তরপত্র টিভি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের কেনাকাটার সুবিধার্থে এবং ব্যবসায়ী সমাজের দাবির প্রেক্ষিতে দোকান ও শপিং মল খোলা রাখার সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে সরকার। আজ মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে এই নতুন নির্দেশনা। এখন থেকে সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত বিপণিবিতানগুলো খোলা রাখা যাবে।

তবে সময় বাড়ানো হলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দিকে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। সরকারের জারি করা নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, দোকানপাটে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা বা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে না।

উল্লেখ্য যে, গত ৪ মে দোকান মালিক সমিতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন জমা দেয়। সেখানে তারা ঈদের কেনাকাটার কথা বিবেচনা করে রাত ১১টা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনের বিষয়টি পর্যালোচনা করে সরকার রাত ১০টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছে। আজ রাত সোয়া ৯টায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি জরুরি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের এই সিদ্ধান্ত কার্যকরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে আজ থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশের বিপণিবিতানগুলো বাড়তি তিন ঘণ্টা কেনাকাটার জন্য খোলা থাকবে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে।

এই সংকট মোকাবিলায় গত ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের দুর্গতি বিবেচনায় সেই সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে ৭টা করা হয়। এবার ঈদুল আজহার গুরুত্ব এবং জনসমাগমের কথা বিবেচনা করে আরও তিন ঘণ্টা সময় বৃদ্ধি করা হলো।

সরকার আশা করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারবেন এবং ব্যবসায়ীরাও তাদের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন। তবে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকতে সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।