সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনকে কেন্দ্র করে আইন-কানুন আরও কঠোর করেছে দেশটির সরকার। যথাযথ অনুমতি বা ‘হজ পারমিট’ ব্যতীত হজ পালনের চেষ্টা করলে বিদেশি নাগরিকদের জন্য বড় অংকের জরিমানা ছাড়াও দেশটিতে প্রবেশে দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশটির এসব কঠোর বিধিনিষেধের কথা জানিয়ে বাংলাদেশি হাজিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ অনুমতিপত্র ছাড়া হজের কোনো আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান করা হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই শাস্তির মাত্রা আরও বেশি। নিয়ম ভঙ্গকারী প্রবাসীদের সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি পরবর্তী ১০ বছর দেশটিতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। মূলত পবিত্র মক্কায় অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং হাজিদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা।
কেবল অবৈধভাবে হজ পালনকারীই নয়, যারা এই কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করবেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের পরিবহন, আবাসন বা অন্য কোনো সেবা প্রদান করে, তবে তাদের সর্বোচ্চ ১ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।
এই নিয়ম ট্রাভেল এজেন্সি, পরিবহন মালিক এবং আবাসন সেবাদাতাদের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এমনকি অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহনগুলো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, জিলকদ মাসের ১ তারিখ থেকে শুরু করে জিলহজ মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ভিজিট ভিসায় থাকা ব্যক্তিরা কোনোভাবেই মক্কা বা হজের জন্য নির্ধারিত পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন না। মক্কায় প্রবেশের জন্য কেবল অনুমোদিত হজ পারমিটই একমাত্র বৈধ নথি হিসেবে গণ্য হবে।
সৌদি আরবের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে মক্কাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া হজ পারমিট বিক্রির অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। দেশটির সরকার স্থানীয় নাগরিক এবং পর্যটকদের কোনো প্রকার জালিয়াতির শিকার না হতে এবং আইন ভঙ্গের কোনো তথ্য থাকলে জরুরি নম্বর ৯১১ (প্রধান অঞ্চলগুলোর জন্য) বা ৯৯৯-এ জানানোর অনুরোধ করেছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজের পবিত্রতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিককে সৌদি আরবের এই আইনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলতে হবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।