২০২৫ সালের জন্য বিশ্বের শীর্ষ ১০ জন কথিত ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ ও ‘জায়নবাদ–বিরোধী’ ইনফ্লুয়েন্সারের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের প্রবাসী ও ইহুদিবিদ্বেষ দমনবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, বাকিরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এই তালিকায় আছেন মার্কিন রক্ষণশীল সাংবাদিক টাকার কার্লসন, যিনি একসময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়া রয়েছেন কট্টর ডানপন্থী কর্মী নিক ফুয়েন্তেস এবং ভাষ্যকার ক্যান্ডেস ওয়েন্স।
তালিকায় স্থান পেয়েছেন সুইডেনের পরিবেশবাদী তরুণ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ-ও। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখায় তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ড্যান বিলজেরিয়ান, তাঁর পরেই গ্রেটার নাম।
ইসরায়েল সরকারের প্রকাশিত ১০ ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ ইনফ্লুয়েন্সারের তালিকা নিয়ে করা আরটির প্রতিবেদনের স্ক্রিনশটের একাংশ।
এছাড়া তালিকায় আছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান, মিসরীয়–মার্কিন কমেডিয়ান ও উপস্থাপক বাসেম ইউসেফ, মার্কিন লেখক ও ইমাম ওমর সুলেইমান, ডেনিশ চিকিৎসক আনাস্তেসিয়া মারিয়া লোপেজ এবং যুক্তরাজ্যের ইউটিউবার ইয়ান ক্যারল।
ইসরায়েলের সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা কেউই কোনো রাষ্ট্রীয় পদে নেই, তবে তাদের বিপুল অনুসারী রয়েছে এবং জনমতে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা আছে। ‘প্রভাবের মাত্রা’ ও ‘সম্ভাব্য ঝুঁকি’ বিবেচনায় নিয়েই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের দৃষ্টিতে তাঁদের বিভিন্ন বক্তব্যকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে, গাজায় চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল সম্পর্কে জনমত ক্রমেই নেতিবাচক হচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক এখন ইসরায়েলকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন, যা গত বছর ছিল ৫৩ শতাংশ।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আবদেল বারি আতওয়ান বলেন, ইসরায়েলি সরকারের নীতিই ইহুদি সম্প্রদায়ের ক্ষতি করছে। তাঁর দাবি, গাজায় চলমান সহিংসতার কারণে বিশ্বজুড়ে ইহুদিরাই এখন চাপে পড়ছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আরবি সংবাদমাধ্যম ‘রাই আল–ইয়োম’-এর প্রধান সম্পাদক আতওয়ান আরও বলেন, তিনি নিজেকে কখনোই ইহুদিবিদ্বেষী মনে করেন না; বরং সহাবস্থানের পক্ষেই তিনি কথা বলেন।