Uttorpatro TV https://uttorpatrotv.com সত্যের পথে, ন্যায়ের লড়াইয়ে Thu, 10 Sep 2026 14:16:11 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.1 https://uttorpatrotv.com/wp-content/uploads/2026/06/cropped-512-1-32x32.jpeg Uttorpatro TV https://uttorpatrotv.com 32 32 বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী https://uttorpatrotv.com/archives/3095 https://uttorpatrotv.com/archives/3095#respond Thu, 10 Sep 2026 14:16:11 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=3095 দেশ ও জনগণের কল্যাণে বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সংসদের প্রতি প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, আলোচনা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান গ্যাস ও […]

The post বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
দেশ ও জনগণের কল্যাণে বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সংসদের প্রতি প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, আলোচনা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি স্বীকার করেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। সরকার এ সমস্যা সমাধানে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট শুধু সরকারের একার বিষয় নয়; এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরাসরি জড়িত। এ ধরনের জাতীয় সমস্যা মোকাবিলায় বিরোধীদলীয় নেতাদের সহযোগিতাও সরকার প্রত্যাশা করেছিল বলে জানান তিনি।

তবে সংকট সমাধানে রাজপথে আয়োজিত কর্মসূচির সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি বড় গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে জনমনে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে—এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে উত্তেজিত করার কিংবা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

লংমার্চের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র গাড়ির বহর নিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করলেই যদি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান করা যেত, তাহলে সরকারই সবার আগে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করত।

তিনি মূলত রাজপথের কর্মসূচির পরিবর্তে জাতীয় সমস্যাগুলো নিয়ে সংসদে গঠনমূলক আলোচনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই সংসদের প্রতি দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকার ও বিরোধীদল উভয়ের অংশগ্রহণে কার্যকর সংসদীয় পরিবেশ তৈরি করা জরুরি বলেও তিনি মত দেন।

তারেক রহমানের বক্তব্যে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি মনে করেন, জনগণের মৌলিক সমস্যা ও জাতীয় সংকটগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার পথ খোলা রাখা প্রয়োজন।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বর্তমানে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের সীমাবদ্ধতা শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে গ্যাসের ঘাটতি বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে চাপ তৈরি করে। ফলে এই সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। সরকার এককভাবে সব সমস্যা সমাধান করতে পারে—এমন ধারণার পরিবর্তে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বিরোধীদলের মতামত ও সহযোগিতাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

সংসদের কার্যক্রম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, জনগণ সংসদকে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য বা বিতর্কের জায়গা হিসেবে দেখতে চায় না; বরং তাদের বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে।

এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ এবং গঠনমূলক বিতর্কের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। গ্যাস, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য কিংবা অন্যান্য মৌলিক সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে সমন্বয় থাকলে জনগণ উপকৃত হবে।

লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে রাজনৈতিক কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে আসে। তাঁর মতে, কোনো কর্মসূচি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখে। শুধু কর্মসূচি পালন বা জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি করে সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সংসদকে রাজনৈতিক মতবিনিময়ের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি মনে করেন, বিরোধীদল সরকারের সমালোচনা করবে—এটাই সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। তবে সেই সমালোচনার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও গঠনমূলক প্রস্তাবও থাকা উচিত।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সরকারপ্রধান। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বিরোধীদলকে বাইরে রেখে নয়, বরং তাদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে চায় সরকার।

এদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জনভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা রয়েছে। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধীদলের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে—একদিকে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করতে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা। জাতীয় স্বার্থে মতপার্থক্যের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার জায়গা তৈরি করার ওপরই তিনি জোর দিয়েছেন।

The post বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/3095/feed 0
রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন না হলে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, স্বৈরশাসকে পরিণত হবে: মামুনুল হক https://uttorpatrotv.com/archives/3092 https://uttorpatrotv.com/archives/3092#respond Thu, 10 Sep 2026 14:13:41 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=3092 দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন না হলে ক্ষমতায় যে দল বা ব্যক্তি আসুক, একসময় তার স্বৈরশাসকে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তাঁর মতে, শুধু সরকার বা ক্ষমতাসীন ব্যক্তি পরিবর্তন করলেই রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না; এর জন্য রাষ্ট্রের বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। […]

The post রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন না হলে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, স্বৈরশাসকে পরিণত হবে: মামুনুল হক first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন না হলে ক্ষমতায় যে দল বা ব্যক্তি আসুক, একসময় তার স্বৈরশাসকে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তাঁর মতে, শুধু সরকার বা ক্ষমতাসীন ব্যক্তি পরিবর্তন করলেই রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না; এর জন্য রাষ্ট্রের বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।

বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর পৌরসভার মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শরীয়তপুর জেলা শাখা আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে মামুনুল হক দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, এই কাঠামোর মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় গেলে পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাসীন ব্যক্তির মধ্যেও স্বৈরাচারী প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তিনি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তি পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতিতেও সংস্কার প্রয়োজন।

মামুনুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান, সেটি বহাল রেখে শুধু ক্ষমতার হাতবদল করলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। তাঁর ভাষায়, ‘লঙ্কায় গেলেই হনুমান হবে’—অর্থাৎ বিদ্যমান ব্যবস্থার প্রভাব থেকে কেউ সহজে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। তাঁর আশঙ্কা, যিনি আজ ক্ষমতায় যাবেন, কয়েক বছর পর তিনিও একই ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে যেতে পারেন।

নাগরিক সমাবেশে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় বিষয়ে একাধিক দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। এর মধ্যে অন্যতম ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। পাশাপাশি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদও জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির পদ অনেকটাই আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, জুলাই বিপ্লবের চেতনা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে বাস্তবসম্মত কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়। মামুনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব থেকে বিচার বিভাগকে বের করে আনতে হবে। এ জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিচার বিভাগকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তিনি এমন একটি বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দেন, যেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিচারিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে না পারে এবং বিচারপতিরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান মামুনুল হক। তিনি বলেন, দেশের সব রাজনৈতিক দল যদি কোনো কারণে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরে যায়, তাহলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রয়োজনে একাই জনগণের কাছে গিয়ে এ দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা না গেলে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

মামুনুল হক বলেন, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমেদ ওসমানী সভাপতিত্ব করেন। এতে দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান হেলাল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নূর হোসাইন নূরানীসহ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে বক্তারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দ্রব্যমূল্যসহ জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মামুনুল হকের বক্তব্যে মূলত রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন, ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া শুধু সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন।

শরীয়তপুরের নাগরিক সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারা এসব দাবি তুলে ধরার পাশাপাশি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানান। সমাবেশে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল।

The post রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন না হলে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, স্বৈরশাসকে পরিণত হবে: মামুনুল হক first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/3092/feed 0
ভাইভা ইস্যুতে সরকারকে করুণ পরিণতির জন্য সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম https://uttorpatrotv.com/archives/3089 https://uttorpatrotv.com/archives/3089#respond Wed, 09 Sep 2026 18:43:55 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=3089 ববি সংবাদদাতা সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, এমন সিদ্ধান্ত জনগণ ভালোভাবে নেবে না। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কীর্তনখোলা হলে জাতীয় ছাত্রশক্তি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের […]

The post ভাইভা ইস্যুতে সরকারকে করুণ পরিণতির জন্য সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
ববি সংবাদদাতা

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, এমন সিদ্ধান্ত জনগণ ভালোভাবে নেবে না।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কীর্তনখোলা হলে জাতীয় ছাত্রশক্তি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ‘জুলাই-৩৬ কুইজ প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় বিএনপি সরকারকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “একটি কোটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনা এখন দিল্লিতে আছেন। আর ভাইবা ইস্যুতে, জনগণ আপনাদের কোথায় পাঠাবে তা টেরও পাবেন না। ফলে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।”

সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “নেক্কারজনকভাবে আমরা গত দুই দিন আগে দেখতে পেলাম, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর ৫০ শতাংশ বাড়ানোর একটি প্রস্তাব এসেছে। অথচ তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, ভাইভা হচ্ছে দলীয় নিয়োগ দেওয়ার একটি সুযোগ। তারা যখন সরকারে এসে এখন উল্টো পথে যাচ্ছে, তখন আমরা তাদের সতর্ক করে দিতে চাই—আপনারা এই কাজটি ভুলেও করবেন না।”

পুরোনো পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার সমালোচনা

নাহিদ ইসলাম বলেন, “কোনো সরকার যদি মনে করে পুরোনো পদ্ধতিতে, পুরোনোভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তাহলে সেই সরকার বাংলাদেশে তার মেয়াদ শেষ করতে পারবে না।”

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর গত দুই বছরে মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির পাশাপাশি হতাশাও তৈরি হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা জনগণকেই মূল্যায়ন করতে হবে।

তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের রাজপথে না নামার ধারণা থাকলেও গণঅভ্যুত্থানে তারাই রাজপথে জীবন দিয়েছেন। অথচ তাদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বদলে ভাইভায় দলীয় নিয়োগের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুধু গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে তাদের বেকারত্ব ও হতাশার মধ্যে রেখে দেওয়ার কোনো সুফল নেই বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তার মতে, শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের পাশাপাশি তরুণদের চাকরি, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর গুরুত্ব

দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কী ধরনের গ্র্যাজুয়েট ও গবেষক তৈরি হবে, তা পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে তিনি বলেন, বরিশাল অঞ্চলের নেতৃত্ব দেওয়া, আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা এবং জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখার সক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়টির তৈরি করতে হবে। যথাযথ পরিকল্পনা করা হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে এ অঞ্চলের প্রধান জ্ঞানকেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস করা উচিত। এটা ছাড়া যদি আমরা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারি, যেখানে রাষ্ট্রের সত্যিকারের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ থাকবে, তাহলে দেশের অনেক বেশি উপকার হবে। কিন্তু যদি আমরা ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশ্ববিদ্যালয় করি, তাহলে সেটি আমাদের কাঙ্ক্ষিত সুফল দেবে না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশের দাবি

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন মত ও চিন্তার মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন নাহিদ ইসলাম। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের মত প্রকাশ এবং কর্মসূচি পালনের সুযোগ দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অধিকার উল্লেখ করে তিনি দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি বলেন।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন, খাবার, আবাসন, পড়াশোনা এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. বেলাল হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সার্জিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু, মহিউদ্দিন রনিসহ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশাল জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

The post ভাইভা ইস্যুতে সরকারকে করুণ পরিণতির জন্য সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/3089/feed 0
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সিইসি https://uttorpatrotv.com/archives/3086 https://uttorpatrotv.com/archives/3086#respond Wed, 09 Sep 2026 09:28:04 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=3086 স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, আগের একটি নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ […]

The post স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সিইসি first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, আগের একটি নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কোর্স শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

‘নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক ওই কোর্সের আয়োজন করা হয় নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে।

প্রশিক্ষণ কোর্স শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, এর আগে একটি সফল নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সফলভাবে সম্পন্ন করা যাবে।

নির্বাচন কমিশনের জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত। এসব নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইন মেনে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অর্থাৎ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচনকালীন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাজারবাগে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কোর্সের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। নির্বাচন পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

সিইসির বক্তব্যে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের প্রস্তুতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার কারণে এ নির্বাচনকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক কর্মতৎপরতা তৈরি হয়। ফলে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, অতীতে একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সিইসির এই বক্তব্যের পর নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আইন মেনে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সবাইকে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুধু নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, ভোটার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার ওপর নির্বাচনের পরিবেশ অনেকাংশে নির্ভর করে।

রাজারবাগের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে আইজিপি মো. আলী হাসান ফকিরসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশিক্ষণ কোর্সে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে যে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে, তাতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের বেছে নেন। এসব নির্বাচনে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সফলভাবে আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইন মেনে সব পক্ষের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।

সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী আইন মেনে অংশগ্রহণ—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

The post স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সিইসি first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/3086/feed 0
নারীদের ওপর হামলাকারীরা কাপুরুষ, বাঁধনের ওপর হামলা ঘৃণ্য অপরাধ https://uttorpatrotv.com/archives/3083 https://uttorpatrotv.com/archives/3083#respond Wed, 09 Sep 2026 09:24:03 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=3083 নারীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, যারা নারীদের ওপর আক্রমণ করে তারা কাপুরুষ। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগকে তিনি একটি ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও […]

The post নারীদের ওপর হামলাকারীরা কাপুরুষ, বাঁধনের ওপর হামলা ঘৃণ্য অপরাধ first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
নারীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, যারা নারীদের ওপর আক্রমণ করে তারা কাপুরুষ। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগকে তিনি একটি ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রুহুল কবির রিজভী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, নারীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন নারীকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা শুধু ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং এটি সমাজের জন্যও একটি গুরুতর বার্তা বহন করে। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ঘটনাটি একটি ঘৃণ্য অপরাধ। তার বক্তব্যে নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কারও ওপর হামলা বা শারীরিকভাবে আক্রমণ করার সুযোগ নেই।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রিজভী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নারীদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতন, লাঞ্ছিত ও অপমানের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, সেই নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল প্রতিবাদ করেছে।

রিজভীর বক্তব্যে রাজনৈতিক আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে নারীরা রাজনৈতিক ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন, তাদের অনেকে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করা নারীদেরও নিপীড়ন করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নারী ও অন্যান্য নাগরিকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হয়রানি করা হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন রুহুল কবির রিজভী। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন তিনি।

জ্বালানি সংকট সম্পর্কে রিজভী বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। তার মতে, এককভাবে কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে এই সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থা সম্পর্কিত হওয়ায় বিভিন্ন দেশকেই এর প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের গ্যাসের সংকট ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে আসবে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এর প্রভাব দেশের বিভিন্ন খাতেও পড়বে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন। দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে রিজভীর বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কর্মকাণ্ডও গুরুত্ব পায়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে তিনি নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় সংগঠনটির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব ও নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন, সামাজিক কর্মসূচি এবং দলীয় কার্যক্রমে নারীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আসছেন। ফলে নারী নির্যাতন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোও রাজনৈতিক বক্তব্যে নিয়মিতভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে ইতালিতে আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়ে রিজভীর বক্তব্যটি তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে দেওয়া মন্তব্য হিসেবে এসেছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল, তা সংশ্লিষ্ট তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে রিজভীর বক্তব্যে একদিকে নারীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে, অন্যদিকে দেশের জ্বালানি সংকট ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়েও বিএনপির অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুগুলোও তার বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।

নারীর নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে রিজভীর বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়ে তার দেওয়া বক্তব্যও আলোচনার অংশ হয়েছে।

The post নারীদের ওপর হামলাকারীরা কাপুরুষ, বাঁধনের ওপর হামলা ঘৃণ্য অপরাধ first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/3083/feed 0
ময়লার ভাগাড়ে পরিণত বামনডাঙ্গা ঐতিহ্যবাহী বাজার, বৃষ্টিতে হাঁটুপানি https://uttorpatrotv.com/archives/3077 https://uttorpatrotv.com/archives/3077#respond Wed, 09 Sep 2026 09:15:14 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=3077 ময়লার ভাগাড়ে পরিণত বামনডাঙ্গা ঐতিহ্যবাহী বাজার, বৃষ্টিতে হাঁটুপানি জয়ন্ত সাহা যতন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বামনডাঙ্গা বাজার দিন দিন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। বাজারের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না […]

The post ময়লার ভাগাড়ে পরিণত বামনডাঙ্গা ঐতিহ্যবাহী বাজার, বৃষ্টিতে হাঁটুপানি first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
ময়লার ভাগাড়ে পরিণত বামনডাঙ্গা ঐতিহ্যবাহী বাজার, বৃষ্টিতে হাঁটুপানি

জয়ন্ত সাহা যতন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা):
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বামনডাঙ্গা বাজার দিন দিন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। বাজারের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন সড়ক ও বাজারের ভেতরে হাঁটুপানি জমে যায়। এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি।
বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকায় বাজারের পরিবেশ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে। ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জয়ন্ত সাহা যতন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা):

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দ্রুত বাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঐতিহ্যবাহী এই বাজারের পরিবেশ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এবিষয়ে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’র সাথে কথা বলে দ্রুত কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি জানান চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখবো।

The post ময়লার ভাগাড়ে পরিণত বামনডাঙ্গা ঐতিহ্যবাহী বাজার, বৃষ্টিতে হাঁটুপানি first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/3077/feed 0
গভীররাতে স্থানীয়দের হাতে মারধরের শিকার ববি ছাত্রদলের তিন নেতা, পাল্টা ভাঙচুর https://uttorpatrotv.com/archives/3073 https://uttorpatrotv.com/archives/3073#respond Mon, 07 Sep 2026 11:28:49 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=3073 ববি প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন ভোলা রোড এলাকায় একটি বাসায় নারী-পুরুষকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের তিন নেতাকে স্থানীয়দের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাদের উদ্ধারে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় একটি পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং বাসাবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন বলেও পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত […]

The post গভীররাতে স্থানীয়দের হাতে মারধরের শিকার ববি ছাত্রদলের তিন নেতা, পাল্টা ভাঙচুর first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
ববি প্রতিনিধি:

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন ভোলা রোড এলাকায় একটি বাসায় নারী-পুরুষকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের তিন নেতাকে স্থানীয়দের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাদের উদ্ধারে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় একটি পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং বাসাবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন বলেও পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গভীররাতে আনুমানিক ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। রহিমের স্ত্রী শিল্পী বেগম চরকাউয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য। স্থানীয়দের দাবি, রহিমের বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

আহত ছাত্রদল নেতারা হলেন—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক পিয়াস আহমেদ রিফাত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল মোল্যা ও অপর এক নেতা রায়হান। অন্যদিকে স্থানীয় পরিবারের আহত সদস্যরা হলেন শিল্পী বেগম, তার স্বামী রহিম, ছেলে আরমান ও জামাতা রিয়াজ।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার রাতে ছাত্রদলের তিন নেতা পিয়াস আহমেদ রিফাত, আশরাফুল মোল্ল্যা ও রায়হান ভোলা রোডের একটি বেকারি থেকে পাউরুটি ও নাস্তা নিয়ে ফেরার পথে দুই তরুণের সঙ্গে এক তরুণীকে একটি বাসায় প্রবেশ করতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা ওই ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না, তা জানার জন্য তাদের অনুসরণ করে ভবনের সামনে যান।

পরে ভবনের বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত রহিমকে বিষয়টি জানানো হয়। প্রথমে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট কক্ষে নক করেন বলে দাবি করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর দরজা খুললে কক্ষের ভেতরে এক তরুণ ও দুই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন। পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলেও তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

ছাত্রদল নেতাদের আরও দাবি, ওই কক্ষ থেকে ইয়াবা বা মাদকদ্রব্যও পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্ট তরুণ-তরুণীদের অভিভাবকদের ঘটনাস্থলে ডাকা হয় বলে জানা গেছে। এর কিছুক্ষণ পর রহিম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো এক নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বলে অভিযোগ করেন ছাত্রদল নেতারা।

ছাত্রদল নেতাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা ওই ব্যক্তিদের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর রহিমের জামাতা রিয়াজ ও ছেলে আরমান ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করেন এবং একপর্যায়ে দুই ছাত্রদল নেতাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

আহত ছাত্রদল নেতা আশরাফুল মোল্ল্যা বলেন, “আমরা রাতে হাঁটাহাঁটির জন্য বের হলে দুইজন মেয়েকে ও একজন ছেলেকে দেখতে পাই। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করি। একপর্যায়ে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি। পরে আমাদের দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করে। একপর্যায়ে আমাদের বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। রায়হান বের হয়ে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেকে এনে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।”

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব শিক্ষার্থী ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে মেয়ে এনে ঘরে ঢুকিয়ে দেয়। আমাদের জিম্মি করে তারা ডাকাতি করতে চেয়েছিল। আমরা তাদের প্রতিহত করেছি। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। তারা যাওয়ার সময় আমাদের বাড়িঘর তছনছ করেছে এবং বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার জামাই ও স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি। আমি ভয়ে বাড়ির বাইরে পালিয়ে আছি।”

ঘটনার একপর্যায়ে তিন ছাত্রদল নেতার মধ্যে রায়হান কোনোভাবে ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীদের খবর দেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক নেতাদের উদ্ধার করেন। এ সময় স্থানীয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয় বলে জানা গেছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওই পরিবারের সদস্যদের মারধর, বাসাবাড়িতে ভাঙচুর ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

০৯ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জুয়েল হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আমার বাড়ির পাশেই। চিৎকার শুনে রাতে ঘুম থেকে উঠে মারামারির ঘটনা দেখি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এসে বাড়িঘর লুটপাট করেছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে চাঁদা দাবি করেছে। তাদের এরকম একটা ব্যবস্থা হওয়া উচিত ছিল।” তবে এ বিষয়ে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বললে তারা এসব টাকা দিতে নিষেধ করেছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে মাদকের অর্থ সম্পর্কিত লেনদেনের বিষয় জড়িত থাকার গুঞ্জন থাকলেও উভয় পক্ষই তা অস্বীকার করেছে।

বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, “মোবাইল ফোনে তথ্য পেয়ে আমাদের টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহত একজনকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ মামলা করেনি। মামলা হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় আহত ছাত্রদল নেতাসহ স্থানীয় পরিবারের সদস্যরা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

The post গভীররাতে স্থানীয়দের হাতে মারধরের শিকার ববি ছাত্রদলের তিন নেতা, পাল্টা ভাঙচুর first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/3073/feed 0
সার পেতে কৃষকদের দীর্ঘ অপেক্ষা, ক্ষোভ ও হতাশা https://uttorpatrotv.com/archives/3070 https://uttorpatrotv.com/archives/3070#respond Mon, 07 Sep 2026 08:00:10 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=3070 জয়ন্ত সাহা যতন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সার নিতে এসে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। ডিলার মজুদ থাকা সার নিয়মিত বিতরণ করলেও সার নিতে প্রতিদিনই শত শত কৃষককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে‌ দেখা যায় উপজেলার বামনডাঙ্গায় সার নিতে আসা কৃষকদের […]

The post সার পেতে কৃষকদের দীর্ঘ অপেক্ষা, ক্ষোভ ও হতাশা first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
জয়ন্ত সাহা যতন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা):
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সার নিতে এসে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। ডিলার মজুদ থাকা সার নিয়মিত বিতরণ করলেও সার নিতে প্রতিদিনই শত শত কৃষককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে‌ দেখা যায় উপজেলার বামনডাঙ্গায় সার নিতে আসা কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সকাল থেকেই কৃষকরা সার পাওয়ার আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন। এতে তীব্র ভিড়ের মধ্যে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
কৃষকদের অভিযোগ, সার বিতরণ চলছে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। একজন কৃষক বলেন, “সার নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সময়মতো সার না পেলে জমিতে সার প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত ও সহজভাবে সার পাওয়ার ব্যবস্থা চাই।”
আরেক কৃষক বলেন, “কৃষিকাজের ব্যস্ত সময়ে সার নেওয়ার জন্য দিনের বড় একটা সময় লাইনে কাটাতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকদের ভোগান্তি আরও বাড়বে। প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার।”
কৃষকদের অনেকেই সার বিতরণ ব্যবস্থা আরও সহজ করার পাশাপাশি দ্রুত অতিরিক্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান। কেউ কেউ দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমাতে খোলা বাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করারও দাবি করেন।
এদিকে সার বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এবং অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমাদের সারের চাহিদা ঠিকই আছে। এরপরও অতিরিক্ত বরাদ্দের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। হয়তো অনেক কৃষক আগামী মৌসুমের জন্য আগেভাগেই সার সংগ্রহ করছেন। এ কারণেই বর্তমানে এত ভিড় দেখা যাচ্ছে।”
কৃষকদের দাবি, দ্রুত অতিরিক্ত বরাদ্দের ব্যবস্থা করে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে দীর্ঘ লাইনের পাশাপাশি তাদের ভোগান্তিও কমবে।

The post সার পেতে কৃষকদের দীর্ঘ অপেক্ষা, ক্ষোভ ও হতাশা first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/3070/feed 0
বিরোধীদের আপত্তির মধ্যেই সম্পত্তি (সংশোধন) বিল পাস, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী দাবি https://uttorpatrotv.com/archives/3067 https://uttorpatrotv.com/archives/3067#respond Sun, 06 Sep 2026 16:45:29 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=3067 বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও বিতর্কের মধ্যেই জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে সম্পত্তি (সংশোধন) বিল-২০২৬। সম্পত্তি দানের পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন—এমন বিধান যুক্ত করে ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি আইনে সংশোধন আনা হয়েছে। বিলটি কুরআন-সুন্নাহর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে এর বিরোধিতা করেছেন বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য। রোববার […]

The post বিরোধীদের আপত্তির মধ্যেই সম্পত্তি (সংশোধন) বিল পাস, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী দাবি first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও বিতর্কের মধ্যেই জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে সম্পত্তি (সংশোধন) বিল-২০২৬। সম্পত্তি দানের পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন—এমন বিধান যুক্ত করে ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি আইনে সংশোধন আনা হয়েছে। বিলটি কুরআন-সুন্নাহর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে এর বিরোধিতা করেছেন বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য।

রোববার সংসদে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিলের ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে তা পাস করা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে কিছু সময়ের জন্য সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগের সুযোগ

সংশোধিত আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।

বিলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ তাদের সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলে, অথবা সন্তান বা নাতি-নাতনির পক্ষ থেকে বিপরীতক্রমে দান করা হলে এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করা হলে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সেই সম্পত্তির ভোগাধিকার ধরে রাখতে পারবেন।

এ ছাড়া দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তির ভোগাধিকার বহাল থাকবে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।

আইনমন্ত্রীর দেওয়া উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান ছিল না। নতুন বিধানটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক পদ্ধতি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

বিরোধী দলের আপত্তি কোথায়

বিলের জনমত যাচাইয়ের আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সামাজিক ও মানবিক বাস্তবতা বিবেচনায় আইনটি আনার উদ্দেশ্য নিয়ে তার আপত্তি নেই। তবে মুসলিমদের ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে আইনটির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার মতে, শরিয়াহর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন প্রণয়ন করা হলে তা নিয়ে ভবিষ্যতে সামাজিক ও আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তিনি আইনটি সংসদে পাস না করে সংশ্লিষ্ট শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে মতামত নেওয়ার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছ থেকেও মতামত নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

বিরোধী দলীয় সদস্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে নতুন বিধান কার্যকর হলে উত্তরাধিকারীদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের সঙ্গে নতুন বিধানটির সামঞ্জস্য নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন।

পটুয়াখালী-২ আসনের শফিকুল ইসলাম বলেন, আইনটি নিয়ে আলেমদের মধ্যে আপত্তি রয়েছে এবং এর ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

নাজিবুর রহমান সরাসরি বিলটিকে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য, নির্বাচনের আগে বিএনপি কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন না করার কথা বলেছিল। অথচ বর্তমান বিলটি ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এটি নিয়ে ইসলামিক স্কলারদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।

অন্য সদস্যরা বলেন, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। তবে সামাজিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্য থাকলেও তার জন্য ধর্মীয় উত্তরাধিকার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কাঠামো তৈরি করা উচিত নয়।

আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি হেবা বা মুসলিম আইনের অধীনে অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিতে হস্তক্ষেপ করবে না।

তিনি স্পষ্ট করেন, বিলে যে ‘গিফট’ বা সম্পত্তি দানের কথা বলা হয়েছে, সেটি হেবা নয়। ফলে মুসলিম আইনের অধীনে প্রচলিত হেবা কিংবা অন্য কোনো বৈধ পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই সংশোধনী বাধা সৃষ্টি করবে না।

আইনমন্ত্রী বলেন, সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সম্পত্তি দান করার পর অনেক বাবা-মা যাতে সন্তানদের কাছ থেকে অসহায় অবস্থায় না পড়েন, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, নতুন বিধানটি অগণিত বাবা-মায়ের জীবনের শেষ সময়ে নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের আইন ও বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে এবং ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের সঙ্গে তুলনা করলেও এটি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।

ইসলামিক ব্যাংকিং নিয়ে বিতর্ক

বিল নিয়ে আলোচনার সময় আইনমন্ত্রী ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উদাহরণও টানেন। তিনি বলেন, ইসলামিক আইনে সুদের পরিবর্তে মুনাফা গ্রহণের ধারণা রয়েছে। তবে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে লোকসানের অংশীদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন জামায়াতে ইসলামীর নাজিবুর রহমান। তিনি দাবি করেন, ইসলামিক ব্যাংকিং সম্পর্কে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য সঠিক নয় এবং তার মন্তব্য সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, জীবনকাল পর্যন্ত ভোগের শর্ত যুক্ত করে হেবা দেওয়ার বিষয়ে ইসলামি আইনে সরাসরি এমন বিধান নেই। পাশাপাশি ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের উদাহরণ টানারও সমালোচনা করেন তিনি।

দ্রুত পাসের দাবিও ছিল

বিতর্কের মধ্যেই কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বিলটি দ্রুত পাসের পক্ষে মত দেন। তার বক্তব্য, আইনটি কার্যকর হলে বাবা-মাকে সন্তানদের হাতে লাঞ্ছিত বা অসহায় হওয়ার মতো পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বাবা-মায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিলটি আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

সবশেষে বিভিন্ন মতামত ও আপত্তি নিয়ে আলোচনা শেষে সংসদে সম্পত্তি (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস হয়। ফলে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট পারিবারিক ক্ষেত্রে দান করা সম্পত্তি ভোগ করার আইনি সুযোগ তৈরি হলো। তবে বিলটির ধর্মীয় ও উত্তরাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

The post বিরোধীদের আপত্তির মধ্যেই সম্পত্তি (সংশোধন) বিল পাস, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী দাবি first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/3067/feed 0
পে-স্কেল ২০২৬: ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা https://uttorpatrotv.com/archives/3064 https://uttorpatrotv.com/archives/3064#respond Fri, 04 Sep 2026 12:11:49 +0000 https://uttorpatrotv.com/?p=3064 দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা সম্ভব হলে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত সোমবার সরকার নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করে। অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী নতুন বেতনস্কেল এবং […]

The post পে-স্কেল ২০২৬: ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা সম্ভব হলে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত সোমবার সরকার নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করে। অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী নতুন বেতনস্কেল এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দেশনাগুলো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বাস্তবে বর্ধিত বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।

নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে। তবে এর আগে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করতে হবে। ভেটিং শেষে বিধিবদ্ধ সরকারি আদেশ বা এসআরও জারির মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এর রেজুলেশন প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপর সেটি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে।

বিজি প্রেসের প্রক্রিয়া শেষে নথি আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। সেখান থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় আইনি যাচাই শেষ হওয়ার পর এসআরও নম্বর দেওয়া হবে। সবশেষে গেজেট আকারে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ প্রকাশ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে-স্কেল নিয়ে কাজ করা এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশে অযথা সময়ক্ষেপণের কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, মূলত সেই সময়ই লাগছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন জাতীয় বেতনস্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ গ্রেড সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শতাংশ হারে বেতন বাড়ছে ২০তম গ্রেডে। এই গ্রেডের কর্মচারীদের বর্তমান সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মূল বেতনের ক্ষেত্রে প্রায় ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূল বেতন দ্বিগুণ বা ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।

তবে নতুন বেতনস্কেলে কর্মচারীরা একবারে পুরো বর্ধিত মূল বেতন পাবেন না। সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় আর্থিক চাপ এড়াতে বাড়তি বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন ও বর্তমান মূল বেতনের পার্থক্যের ৫০ শতাংশ প্রথম ধাপে যুক্ত হবে। দ্বিতীয় ধাপে বাড়তি অংশের ২৫ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ যোগ হবে।

অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে কার্যকর হবে। দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত বেতন নির্ধারিত হবে।

২০তম গ্রেডের একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে নতুন কাঠামোতে তা ২০ হাজার টাকা হবে। অর্থাৎ মোট বাড়তি ১১ হাজার ৭৫০ টাকা। প্রথম ধাপে এর অর্ধেক, অর্থাৎ ৫ হাজার ৮৭৫ টাকা যোগ হয়ে মূল বেতন দাঁড়াবে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা।

পরবর্তী ধাপে বাড়তি অংশের আরও ২৫ শতাংশ বা ২ হাজার ৯৩৭ টাকা ৫০ পয়সা যুক্ত হলে মূল বেতন হবে ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা। তৃতীয় ধাপে একই পরিমাণ যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত মূল বেতন ২০ হাজার টাকায় পৌঁছাবে।

প্রথম গ্রেডেও একইভাবে ধাপে ধাপে বেতন পূর্ণ কাঠামোয় যাবে। বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা থেকে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বাড়তি ৭৮ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৩১ হাজার ২০০ টাকা প্রথম ধাপে যুক্ত হলে মূল বেতন দাঁড়াবে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা।

দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৩ হাজার ৪০০ টাকা যোগ হয়ে তা হবে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা। তৃতীয় ধাপে সমপরিমাণ অর্থ যুক্ত হলে চূড়ান্ত মূল বেতন দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

নবম গ্রেডের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। বর্তমান ২২ হাজার টাকা থেকে এই গ্রেডের মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন ধাপে তা যথাক্রমে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা, ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা এবং শেষ ধাপে ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছাবে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল অনুমোদন হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক স্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির বিষয়। বিশেষ করে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করাকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।

তবে শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, সরকারি চাকরির নিম্নস্তরের কর্মচারীদের পদোন্নতির বিষয়েও দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য যেভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী পদোন্নতির সুযোগ তৈরি করা হয়, নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অনেক কর্মচারী নির্ধারিত ফিডার পদে দীর্ঘ সময় কাজ করার পরও বছরের পর বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হন। তাই পদ খালি না থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় পদোন্নতির সুযোগ তৈরির দাবি রয়েছে।

সব মিলিয়ে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এখন সরকারি চাকরিজীবীদের অন্যতম প্রত্যাশিত বিষয়। গেজেট প্রকাশের পর বেতন কাঠামোর বিস্তারিত নির্দেশনা আরও স্পষ্ট হবে। এরপর নির্ধারিত ধাপ অনুযায়ী বর্ধিত বেতন বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হবে। দীর্ঘদিন পর নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি এর আর্থিক প্রভাব দেশের বাজেট ও অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

The post পে-স্কেল ২০২৬: ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা first appeared on Uttorpatro TV.

]]>
https://uttorpatrotv.com/archives/3064/feed 0