সাঘাটায় শিশুকে পিটিয়ে ভেঙে দিলো মাথার হাড় – Uttorpatro TV

সাঘাটায় শিশুকে পিটিয়ে ভেঙে দিলো মাথার হাড়

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১৫, ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে আলিম (১৩) নামে এক শিশুকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে শিশুটির মাথার হাড় ভেঙে যায় এবং সে গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সন্তানের সুস্থতার আশায় পরিবারটি এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের চকচকিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে আলিম গত ২৯ নভেম্বর পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে হামলার শিকার হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিবেশী আজাদুল ইসলামের ভাতিজা রুবেল তাকে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে একাধিকবার আঘাত করলে শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার মাথার হাড় ভেঙে যায়।

ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মাথায় অস্ত্রোপচার করা হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।

শিশুটির বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। সেই শত্রুতার জের ধরেই তার নিরীহ ছেলের ওপর এ নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ছেলের দ্রুত সুস্থতা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় মামলা করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছে পরিবার। পরে অভিযোগ জানাতে গেলে মামলা নেয়নি বলেও তারা অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ঘটনার প্রায় তিন মাস পর শিশুটির মা আরিফা বেগম সাঘাটা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে বর্তমানে পিবিআই পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি আজাদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শত্রুতার কারণে নয়, তার ভাতিজার ব্যাটের আঘাতেই শিশুটি আহত হয়েছে এবং তারা তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন নৃশংস ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি শিশুকে লক্ষ্য করে এমন সহিংসতা সমাজে নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরছে।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।