আন্দোলন শুরু হয়েছে এবং তা সফল করেই ঘরে ফিরবে বিরোধী দল—এমন মন্তব্য করেছেন শফিকুর রহমান। – Uttorpatro TV

আন্দোলন শুরু হয়েছে এবং তা সফল করেই ঘরে ফিরবে বিরোধী দল—এমন মন্তব্য করেছেন শফিকুর রহমান।

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১৪, ২০২৬

রাকিব , স্টাফ রিপোর্টার-

 

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, চিফ হুইপ, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের কারণেই আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতা গড়ে উঠেছে।

তার ভাষায়, “জুলাই থাকলে আমরা আছি, সরকার আছে, বিরোধী দল আছে; আর জুলাই না থাকলে কিছুই থাকত না।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরকার শেষ পর্যন্ত পার পাবে না এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হবে।

বিরোধীদলীয় এই নেতা সংসদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সংসদে অনেক সময় এমন আচরণ দেখা যায়, যা থেকে বোঝা যায়—পর্দার আড়াল থেকে কারা নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে দ্বৈত অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।

সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী কণ্ঠ দমনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সুযোগ থাকুক বা না থাকুক, তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

তিনি আরও বলেন, সংসদের সুবিধা নেওয়ার জন্য তারা সেখানে যাচ্ছেন না। প্রয়োজন ছাড়া কোনো সুবিধা গ্রহণ করবেন না বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে অবৈধ কোনো কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে যতদিন প্রয়োজন ততদিন সংসদে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যখন আর কিছু করার থাকবে না, তখন তারা সংসদ ত্যাগ করবেন। তবে এর আগে সংসদকে কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে দেখতে রাজি নন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশে কোনো পারিবারিক রাজতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক অঙ্গনের ‘দুষ্টচক্র’ ভাঙার আহ্বান জানান তিনি।

সংসদে ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তার দাবি, অতীতে যেমন বিরোধী দলকে তুচ্ছ করা হতো, এখন একই ধরনের আচরণ পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের আচরণের পরিণতি ভালো হবে না।

এদিকে দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। ব্যাংকগুলোকে দলীয়করণ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

রাজনীতিতে শুধু পরিবর্তন নয়, সংস্কৃতিগত পরিবর্তনেরও প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আইন—সবখানে অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

রাজধানীর কাকরাইলে অনুষ্ঠিত “গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ” শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের ফলাফলকে অস্বীকার করা হচ্ছে এবং একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। তার মতে, একটি পক্ষ ‘জুলাই সনদ’ মেনে নেওয়ার কথা বললেও ‘জুলাই আদেশ’ অস্বীকার করছে, যার ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মৌলিক সংস্কার সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাব দেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, অতীতে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল, সেগুলো এখন অস্বীকার করা হচ্ছে। এতে করে দেশকে নতুন করে সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের সংস্কার আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক আলোচনার পরও একই বিষয়ে আবার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে, যার দায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে।

রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা হল মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।-উত্তর ত্র টিভি