
হরমুজ প্রণালি অবরোধের পদক্ষেপ থেকে সরে গিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে সৌদি আরব। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব আশঙ্কা করছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া হরমুজ প্রণালি অবরোধের পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করার পর তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান।
ইরানকে প্রণালি খুলে দিতে বাধ্য করতে ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। গতকাল সোমবার থেকে এ অবরোধ কার্যকর হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আরব কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে, যা লোহিত সাগরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংছবি: রয়টার্স
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংছবি: রয়টার্স
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে এবং আগে থেকেই নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে দুর্বল করছে। তিনি একে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
এদিকে, তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ উপেক্ষা করে চীনের একটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: আল–জাজিরা, মিডল ইস্ট আই, রয়টার্স

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুনফাইল ছবি: রয়টার্স
ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশটি সন্তোষজনক হারে তেল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে এবং এর আয় দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তেল খাত পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সম্মান জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানফাইল ছবি: রয়টার্স
তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ অথবা সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নামও আলোচনায় রয়েছে।