“নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ স্লোগানকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার উৎসবমুখর পরিবেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের” – Uttorpatro TV

“নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ স্লোগানকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার উৎসবমুখর পরিবেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের”

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১৪, ২০২৬

চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে বের হওয়া এই শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ যোগ দেন

আজ সকাল ৯টা ৬ মিনিটে চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। শোভাযাত্রাটির নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এছাড়াও শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টর এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবারের মতো এবারও শোভাযাত্রায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল। শোভাযাত্রার শুরুতেই ছিল একটি অশ্বারোহী দল। এরপরে পর্যায়ক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশের পতাকা হাতে শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট এবং প্রক্টরিয়াল টিম অংশগ্রহণ করে। সবশেষে ছিল শোভাযাত্রার প্রধান ব্যানার, যেখানে শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য লেখা ছিল।

এবারের শোভাযাত্রায় মোট পাঁচটি প্রধান মোটিফ বা প্রতীক রাখা হয়েছিল, যা বিশেষভাবে দৃষ্টিনন্দন এবং অর্থবহ ছিল: ১. মোরগ: এটি নতুন সূচনা, জাগরণ এবং আলোর আগমনের প্রতীক হিসেবে অন্ধকার দূর করার বার্তা দেয়। ২. দোতারা: বাঙালির লোকসংগীতের প্রাণ এই বাদ্যযন্ত্রটি সাংস্কৃতিক শিকড়কে মনে করিয়ে দেয় এবং বাউল শিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে সংগীতের মর্যাদাও তুলে ধরে। ৩. কাঠের হাতি: নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের আদলে নির্মিত এই হাতি লোকজ ঐতিহ্য, শক্তি ও আভিজাত্যের প্রতীক। ৪. টেপা ঘোড়া: এটি গ্রামবাংলার সরল জীবন ও শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। ৫. পায়রা: সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং বিশ্ব শান্তির বার্তা বহন করে।

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে দিয়ে ইউটার্ন নিয়ে রাজু ভাস্কর্য এবং টিএসসি প্রাঙ্গণকে ডানপাশে রেখে দোয়েল চত্বর পার হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে আবার চারুকলা অনুষদে এসে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিপুল সংখ্যক সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। অনেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে শোভাযাত্রায় এসে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন। প্রথমবারের মতো শোভাযাত্রায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসা শারমিন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, “এটা আমাদের বাঙালির একটা ঐতিহ্য। শোভাযাত্রা সম্পর্কে বাচ্চাদের অবশ্যই জানাতে হবে। আমরা যদি ওদের না নিয়ে আসি, তাহলে ওরা বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে জানবে কীভাবে?”