হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তর নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রণধীর জয়সওয়াল - Uttorpatro TV হাদি হত্যা মামলার আসামি হস্তান্তর ও তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ভারতের বার্তা

হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তর নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রণধীর জয়সওয়াল

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: August 11, 2026

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশে হস্তান্তর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন দিল্লি সফর প্রসঙ্গে নতুন তথ্য দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জোড়া ইস্যুতে ভারতের অবস্থান ও কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেশের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই সম্পর্কিত হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় বর্তমানে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা দুই আসামিকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়টি ওঠে আসে। সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ব্যাখ্যা করেন।

তিনি জানান, আসামি হস্তান্তরের বিষয়টি মূলত একটি গভীর ‘আইনি বিষয়’। ভারতের নিজস্ব আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালিত হয়। জয়সওয়াল আরও স্পষ্ট করেন যে, এই মামলা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে এবং আইনগত দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হাদি হত্যা মামলার পাশাপাশি ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক চিত্র ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী নয়াদিল্লি।

তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর পাশাপাশি, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ সেশন’-এ যোগ দেওয়ার জন্যও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত সংক্রান্ত অপরাধের নিষ্পত্তি এবং প্রত্যর্পণ ইস্যুগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক কূটনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই যৌথ তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আইনি লড়াই এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই আগামী দিনে এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর সুনির্দিষ্ট সমাধান আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।