২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হওয়ার খবর জানালেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ বুধবার সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য ও প্রস্তুতিবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে ছবি: প্রথম আলো

দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের রূপান্তর আসতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৮ সাল থেকে সারা দেশে একযোগে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মূলত আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানেই দেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতি ও নতুন কারিকুলামের এই গুরুত্বপূর্ণ রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সরকারের ইচ্ছা ছিল আরও দ্রুত সময়ের মধ্যে আধুনিক এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করার। তবে একটি আন্তর্জাতিক মানের ও বাস্তবসম্মত শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য যে ধরনের চুলচেরা বিশ্লেষণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি প্রয়োজন, তার জন্য বর্তমান সময়টি যথেষ্ট নয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে কোনো অসম্পূর্ণ কারিকুলাম চাপিয়ে দিতে চায় না মন্ত্রণালয়। তাই ২০২৭ সালের পরিবর্তে ২০২৮ সালকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর চূড়ান্ত বছর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই নতুন শিক্ষাক্রমের খসড়া ও রূপরেখা তৈরির জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন নতুন শিক্ষাক্রমের মূল দর্শন ও লক্ষ্যগুলো গণমাধ্যমের সামনে বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে আমরা দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের শুধু মুখস্থনির্ভর বা পুঁথিগত বিদ্যায় আবদ্ধ না রাখা।”
উপদেষ্টা আরও জানান, নতুন এই শিক্ষাক্রমে তাত্ত্বিক পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষাক্রমের ভেতরেই সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সহশিক্ষা কার্যক্রমকে (Co-curricular activities) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভেতরের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়।
নতুন শিক্ষাক্রমের আরেকটি যুগান্তকারী দিক হলো কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ। উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও কর্মসংস্থানের বাজারের কথা বিবেচনা করে কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এর ফলে মাধ্যমিক স্তর শেষ করার আগেই একজন শিক্ষার্থী যেকোনো একটি কারিগরি বা বাস্তবমুখী দক্ষতায় পারদর্শী হয়ে উঠতে পারবে, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন শিক্ষাক্রমের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পরিসংখ্যান ও সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। তিনি পরীক্ষা যেন সম্পূর্ণ নকলমুক্ত, প্রশ্নফাঁসের গুজবমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে বিষয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদেরা। এখন নতুন কমিটির মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানমনস্ক কারিকুলাম তৈরীর দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।