কয়েক দিনের টানা গরমের পর আজ ঢাকা ভিজেছে বৃষ্টিতে। বর্ষণের আগে অন্ধকার আকাশে বিদ্যুতের চমকও দেখা যায়। রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে, রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ছবি: জাহিদুল করিম

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা অসহনীয় দাবদাহের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টির দেখা মিলেছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে এই বৃষ্টির সাথে আসা কালবৈশাখী ও বজ্রপাত কেড়ে নিয়েছে অন্তত ১২টি তাজা প্রাণ। আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশের পাঁচটি জেলায় বজ্রপাতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় ৫ জন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে ২ জন করে এবং পঞ্চগড়ে ১ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
জেলায় বজ্রপাতে সব মিলিয়ে ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা গ্রামে। বিকেলে বৃষ্টির সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সরাসরি বজ্রপাতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী (১০), রাফি চৌধুরী (১৫) ও মিজান মিয়া (২০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় একটি গরুও প্রাণ হারায়।
এ ছাড়া ফুলছড়ি উপজেলার দেলুয়াবাড়ি চরে ঘোড়ার গাড়িতে খড় নিয়ে ফেরার পথে মানিক মিয়া (২৫) এবং সাঘাটার হেলেঞ্চা গ্রামে ছাগল দেখতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হয়ে নম্বার আলী (৬৫) মারা যান।
জামালপুরে পৃথক বজ্রপাতে ২ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় রান্নার কাজ করার সময় মর্জিনা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূ প্রাণ হারান। অন্যদিকে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় মাঠে কাজ করার সময় হাসমত আলী (৪৫) নামের এক কৃষক নিহত হন। জেলায় বজ্রপাতে মোট ৫টি গরুও মারা গেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে লাবণী আক্তার (৩৫) এবং জমিতে ফসল দেখতে গিয়ে ইলিয়াস আলী (৩৭) বজ্রপাতে নিহত হন।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মাঠে কাটা ধান স্তূপ করার সময় হোসেন আলী (২৫) এবং তাড়াশে মাঠে কাজ করার সময় কৃষক আবদুল হামিদ (৫০) বজ্রপাতের শিকার হয়ে মারা যান।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে চা-বাগান থেকে পাতা তুলে ফেরার পথে সোহরাওয়ার্দী (২২) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, মাত্র আট দিন আগে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় আরও দুজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
| জেলা | নিহতের সংখ্যা | প্রধান কারণ/স্থান |
| গাইবান্ধা | ৫ | রাস্তা, ফসলের মাঠ ও গো-খাদ্য বহনকালে |
| ঠাকুরগাঁও | ২ | ঘাস কাটা ও ফসল দেখতে গিয়ে |
| সিরাজগঞ্জ | ২ | ধান গুছিয়ে রাখার সময় ও মাঠের কাজ |
| জামালপুর | ২ | রান্নাঘরে কাজ ও ফসলের মাঠে |
| পঞ্চগড় | ১ | চা-বাগান থেকে ফেরার পথে |
| মোট | ১২ |
দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব অপমৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্বস্তির বৃষ্টির সাথে এমন প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে।