সিলেট সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ তুমুল গোলাগুলি: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গর্জে উঠল বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীরা - Uttorpatro TV সিলেট সীমান্তে বিএসএফের উসকানিমূলক গুলিবর্ষণ: বিজিবির সাহসী পাল্টা জবাবে পিছু হটল ভারতীয় বাহিনী

সিলেট সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ তুমুল গোলাগুলি: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গর্জে উঠল বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীরা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২০, ২০২৬
সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অন্যায় আগ্রাসন ও উসকানিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আবার বুক চিতিয়ে বীরত্বপূর্ণ জবাব দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আবারও বুক চিতিয়ে বীরত্বপূর্ণ জবাব দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সিলেট সীমান্তের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট এলাকায় বিএসএফের অতর্কিত ও উসকানিমূলক গুলিবর্ষণের জবাবে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বিজিবি জওয়ানেরা। বাংলাদেশের সীমান্ত প্রহরীদের বজ্রকঠিন ও পেশাদারী অ্যাকশনের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় ভারতীয় বাহিনী। এই বীরত্বপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থানের পর বর্তমানে ওই এলাকার সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে সোনারহাট সীমান্তে আকস্মিকভাবে উসকানিমূলক গুলিবর্ষণ শুরু করে বিএসএফের সদস্যরা। কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই ভারতীয় বাহিনীর এমন কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে গর্জে ওঠে বিজিবির অস্ত্র। দেশের সীমানা ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি জওয়ানেরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু সময় তুমুল গোলাগুলি চলে। বিজিবির এমন তাৎক্ষণিক ও অনমনীয় অবস্থানের কারণে বিএসএফের আগ্রাসী তৎপরতা থমকে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির পর থেকে সোনারহাটসহ আশপাশের সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল, রণপ্রস্তুতি এবং নজরদারি সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার করা হয়েছে।

৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিএসএফের গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা না গেলেও বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে যে কড়া জবাব দিয়েছে, তার ফলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অননুমোদিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে স্থানীয় জনসাধারণকে সচেতন করা হয়েছে।

সিলেট সীমান্তের এই ঘটনা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষকরা বলছেন, বিএসএফ বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তজুড়ে যে রক্তাক্ত নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। রাষ্ট্রীয় দায়মুক্তির সুযোগ নিয়ে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির নীতি ব্যবহার করে বিএসএফ দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও আগ্রাসন চালাচ্ছে, যা বিশ্ব দরবারে নজিরবিহীন মানবাধিকার লঙ্ঘন। তবে গত দুই বছরে বিএসএফের এই একতরফা আধিপত্য ও জুলুমের বিরুদ্ধে বিজিবি এবং সীমান্তবর্তী বীর জনতা অভূতপূর্ব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি যশোরের ধান্যখোলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বিজিবি সিপাহি মোহাম্মদ রইশুদ্দীন শহীদ হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত নীতিতে এক আমূল পরিবর্তন আসে। এরপর থেকে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জোনে ভারতের অবৈধ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছুড়ে নসাৎ করে দেয় বিজিবি।

ছবি- অনলাইন থেকে সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম পরিস্থিতিতে বিজিবি সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করে। বিজিবির এই দেশপ্রেমিক ও কৌশলগত পরিবর্তন ভারতীয় স্ট্র্যাটেজিক থিংক ট্যাংক ‘ইনষ্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’ (আইডিএসএ)-এর প্রতিবেদনেও ভারতের জন্য একটি বড় ‘নিরাপত্তা ভীতি ও ধাক্কা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে।

এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মৌলভীবাজারের জুড়ী সীমান্তে কিশোরী স্বর্ণা দাস এবং ঠাকুরগাঁও সীমান্তে কিশোর জয়ন্ত কুমার সিংহকে বিএসএফ নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তখন কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ লিপি পাঠানো হয় এবং বিজিবি ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে বিএসএফের দ্বিচারিতাকে কঠোর ভাষায় জবাব দেয়।

বিজিবির এই অনমনীয় অবস্থানের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষও এখন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে বিএসএফের অনধিকার প্রবেশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে। গত বছর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এবং কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলে বিজিবি।

সবশেষ চলতি বছরের শুরুর দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওয়াহেদপুর এবং সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে বিএসএফ রাতের অন্ধকারে প্রজেক্টর লাইট জ্বালিয়ে দাদাগিরি দেখানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। পরবর্তীতে বিজিবি নিজ নিজ বাংকারে ভারী অস্ত্রসহ চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলে বিএসএফ পুরোপুরি পিছু হটে এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বাংলাদেশের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়। গত সোমবারের সিলেট সীমান্তের ঘটনাটি প্রমাণ করে, পরিবর্তিত বাংলাদেশের বিজিবি ও বীর জনতার ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ ভারতের একতরফা আগ্রাসী নীতিকে সীমান্তে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।