মাদ্রাসাছাত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করার আসামী: অভিযুক্ত শিক্ষকের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর - Uttorpatro TV নেত্রকোনায় আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা: সেই শিক্ষকের ৩ দিনের রিমান্ড

মাদ্রাসাছাত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করার আসামী: অভিযুক্ত শিক্ষকের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৭, ২০২৬
ধর্ষণ-প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে নেত্রকোনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালত সূত্র জানায়, আলোচিত এই মামলার আসামিকে বেলা ১১টার দিকে কড়া পাহারায় আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত ও ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি (পিপি) নূরুল কবির গণমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগী শিশুটি ইতিমধ্যে আদালতে জবানবন্দি দিয়ে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তিনি আরও বলেন, “শিশুটি যখন সন্তান জন্ম দেবে, তখন যাতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পিতৃত্ব নিশ্চিত করা হয়, আমরা সেই দাবি জানিয়েছি। আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন।”

এদিকে, শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি যে নারী চিকিৎসক প্রথম শনাক্ত করেছিলেন, তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে পিপি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই চিকিৎসকের নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশ তদারকি করছে এবং এ ব্যাপারে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা স্থাপন করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। শিশুটির মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে তার মা বাড়িতে ফিরে আসেন এবং জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি জানতে পারেন।

গত ১৮ এপ্রিল মদন উপজেলার একটি ক্লিনিকে পরীক্ষার পর জানা যায়, ১১ বছরের ওই শিশুটি ৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে থাকা ওই শিক্ষককে গত মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে র‍্যাব-১৪-এর একটি দল গ্রেপ্তার করে।

বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।