আগামী বুধবার, ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। প্রথম দফার ১৫২ আসনের লড়াই শেষে এখন সবার নজর দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনের দিকে। দুই প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি—উভয় পক্ষই নিজ নিজ রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্য নিজের ‘দুর্গ’ রক্ষা করা, অন্যদিকে মোদি-শাহ জুটির নজর ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করা।
বিজেপি প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১০০টি জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও দলের অন্দরেই এখন তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। উত্তরবঙ্গের এক প্রবীণ বিজেপি নেতার মতে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা হয়তো পূরণ হচ্ছে না। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই অঞ্চলে বিজেপি ৫৯টি আসন পেয়েছিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবার বিজেপি খুব ভালো করলে ৭৫টির আশেপাশে আসন পেতে পারে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮ আসন পেতে হলে দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গে অসাধ্য সাধন করতে হবে গেরুয়া শিবিরকে।
দ্বিতীয় দফায় যে ১৪২ আসনে ভোট হবে, সেখানে ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ১২৩টি (৮৭%) আসনে জয়লাভ করেছিল। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৬৪টি আসনের মধ্যে ৫৮টিই ছিল জোড়াফুলের দখলে। কলকাতা, হাওড়া এবং পূর্ব বর্ধমানে গতবার বিরোধীরা খাতা খুলতে পারেনি।
বিজেপিকে যদি ক্ষমতায় আসতে হয়, তবে দক্ষিণবঙ্গে তাদের ভোট প্রাপ্তি ১৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৫১ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই দুর্ভেদ্য দুর্গে থাবা বসানো বিজেপির জন্য পাহাড় জয়ের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ।
নরেন্দ্র মোদি–অমিত শাহসহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারাও অবস্থান করছেন পশ্চিমবঙ্গে। উত্তর চব্বিশ পরগনায় এক জনসভায় বক্তৃতা করছেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। ২৬ এপ্রিল ২০২৬, দমদম উত্তর আসন ছবি: এএনআই
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিশাল সংখ্যালঘু ভোট বরাবরই তৃণমূলের শক্তির বড় জায়গা। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম ভোটাররা এবার আরও বেশি সংহত। সাধারণ ভোটারদের ধারণা, ভোট ভাগ না হয়ে এবার তা সরাসরি তৃণমূলের ঝোলায় যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যা শাসক দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
তৃণমূলের অন্দরে শঙ্কা কাজ করছে আসনের ব্যবধান নিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি যদি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৪৮ আসন) নাও পায়, তবে ১২০টির আশেপাশে আসন পেলেই তৃণমূলের জন্য বিপদ। মহারাষ্ট্র বা বিহারের উদাহরণ টেনে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, খুব সামান্য ব্যবধানে তৃণমূল জিতলে ভবিষ্যতে দল ভাঙানোর রাজনীতি বা অর্থবল প্রয়োগ করে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে বিজেপি।
নির্বাচনী প্রচারে কোনো খামতি রাখছে না কোনো পক্ষই। দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দেখা গেছে বেলেঘাটায় তৃণমূলের হয়ে প্রচার করতে। অন্যদিকে, জেপি নাড্ডা, নীতিন নবীনসহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ঘাঁটি গেড়েছেন কলকাতায়।
আগামী ৪ মে নির্বাচনী ফলাফলই বলে দেবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তাঁর হ্যাটট্রিক জয়ের ইতিহাস ধরে রাখতে পারবেন, নাকি দক্ষিণবঙ্গের দুর্গে ধস নামিয়ে গেরুয়া ঝড় আছড়ে পড়বে রাজভবনে।