ছবি- উত্তরপত্র টিভি

সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান নাগরিক অধিকার এবং দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এই সভায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের কথা বলার অধিকারে বিশ্বাসী।

ছবি- উত্তরপত্র টিভি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে মানুষ কথা বলতে ভয় পেত, কিন্তু সেই সংস্কৃতি আর চলবে না। তিনি বলেন:
“মানুষ যদি সমস্যায় পড়েন, তবে তারা যেন তা নির্দ্বিধায় বলতে পারেন। একটা কথা বললেই পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যাবে—এমনটি আর হতে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কিন্তু কেবল ভিন্নমতের জন্য কাউকে হয়রানি করা যাবে না।
রাস্তায় সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে বলেই তারা রাস্তায় নেমে এসেছে। তবে এই সমর্থন ধরে রাখতে হলে নেতাকর্মীদের বিনয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতাসীন দলের কর্মী—এই মানসিকতা মাথায় আনা যাবে না। এটি মাথায় আনলেই সব অর্জন বরবাদ হয়ে যাবে।” তিনি সবাইকে জনগনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলার এবং ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দল ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান:
আগামী নির্বাচনে প্রতিটি জায়গায় একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে হাই কমান্ড। জনগণ যাতে নেতাকর্মীদের আচরণে ক্ষুব্ধ না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখতে হবে।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী।
আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী।
শহিদ উদ্দন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। সভায় সিলেটের স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন।