আর মাত্র এক মাস পরেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর—২৩তম ফিফা বিশ্বকাপ। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলপাগল দেশ বাংলাদেশে এবারের আসরটি সরাসরি সম্প্রচার করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি কিংবা বেসরকারি কোনো স্যাটেলাইট চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সম্প্রচার স্বত্ব ক্রয় করেনি।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কিংবা পাড়া-মহল্লায় যে উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল, যা নজর কেড়েছিল ফিফারও, এবার সেই আমেজ ম্লান হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফিফার কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদিত দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের চ্যানেল বা মাধ্যমে খেলা দেখানো সম্ভব নয়। ফলে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান স্বত্ব না কিনলে ফিফার আসরটি দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন কোটি দর্শক।
এবারের বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড’-এর হাতে রয়েছে। বিটিভি সূত্রে জানা গেছে, স্প্রিংবক এই স্বত্বের বিনিময়ে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা দাবি করেছে, যা করসহ প্রায় ২০০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। এই বিশাল অংকের অর্ধেক ১০ মে’র মধ্যে এবং বাকিটা ১০ জুনের মধ্যে পরিশোধের শর্ত দেওয়া হয়েছিল।
সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সদরদপ্তর
বিটিভি এই চড়া মূল্য দেখে ফিফার কাছে সরাসরি মেইল করলেও এখনো কোনো সাড়া পায়নি। ২০১৮ সালে কোনো খরচ ছাড়া খেলা দেখালেও ২০২২ সালে বিটিভি প্রায় ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে স্বত্ব কিনেছিল। কিন্তু এবার সেই অংক দ্বিগুণ হওয়ায় বাজেট সংকটে পড়েছে রাষ্ট্রীয় এই মাধ্যমটি।
বেসরকারি চ্যানেলগুলো এবার বিশ্বকাপ নিয়ে খুব একটা আগ্রহী নয়। এর প্রধান কারণ হলো সময় এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। উত্তর আমেরিকায় খেলা হওয়ায় বাংলাদেশে অধিকাংশ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে গভীর রাত কিংবা ভোরবেলা। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই সময়ে দর্শক সংখ্যা অনেক কম থাকবে, যার ফলে বিজ্ঞাপন থেকে লগ্নি করা টাকা তুলে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।
২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখানো নাগরিক টিভি কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি-ও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে আশার কথা হলো, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানিয়েছেন যে বিষয়টি নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সিঙ্গাপুরের স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড জানিয়েছে, তারা নিজেরাও উচ্চমূল্যে ফিফার কাছ থেকে গ্লোবাল স্বত্ব কিনেছে। তবে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ও বিটিভির গুরুত্ব বিবেচনা করে তারা এখনো আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। তারা চায় একটি গ্রহণযোগ্য মুনাফার বিনিময়ে স্বত্ব হস্তান্তর করতে।
এদিকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ করিম মনে করেন, ফুটবলপ্রেমী জাতি হিসেবে বাংলাদেশে বিশ্বকাপ দেখানো হবে না, এটা অভাবনীয়। তিনি যেকোনো উপায়ে, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্বকাপ শুরু হতে সময় খুব বেশি বাকি নেই। এখন দেখার বিষয়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা শেষ পর্যন্ত বড় পর্দায় মেসির উত্তরসূরিদের লড়াই দেখার সুযোগ পান কি না।