রয়টার্স এক্সক্লুসিভ ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরানি আলোচকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে পৌঁছে দেয় পাকিস্তান – Uttorpatro TV

রয়টার্স এক্সক্লুসিভ ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরানি আলোচকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে পৌঁছে দেয় পাকিস্তান

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১৮, ২০২৬

ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কার মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিরাপত্তা দিয়ে নিজ দেশে পৌঁছে দেয় পাকিস্তান বিমানবাহিনী—এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর তিনটি সূত্র।

গত ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। আলোচনা শেষে মার্কিন প্রতিনিধিদল সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন করে দ্রুত ইসলামাবাদ ত্যাগ করে।

তবে ব্যর্থ আলোচনার পর ইরানি কূটনীতিকদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়, দেশে ফেরার পথে ইসরায়েল তাদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি বড় বহর ইরানি প্রতিনিধিদের বহনকারী উড়োজাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।

পাকিস্তানের দুটি সূত্র জানায়, এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় দুই ডজন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারির জন্য এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমও ব্যবহার করা হয়।

আলোচনায় সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে আবার আলোচনা হলে একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। এমনকি প্রয়োজন হলে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের পর থেকেই নিরাপত্তা দেবে।

একজন আঞ্চলিক কূটনীতিক বলেন, ইরানি প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য হুমকির কথা জানালে পাকিস্তানই নিরাপত্তা পাহারা দেওয়ার ওপর জোর দেয়। তিনি জানান, আগে কখনো এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি।

এ বিষয়ে ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে পাকিস্তান বিমানবাহিনী এবং সামরিক বাহিনীও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মতে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানি প্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছিলেন যে তারা হামলার লক্ষ্য হতে পারেন। একজন সূত্র বলেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত বড় একটি সামরিক অভিযান—একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলকে আকাশপথে সুরক্ষা দেওয়া, যেখানে যেকোনো হুমকি মোকাবিলার জন্য শক্তিশালী যুদ্ধবিমান প্রস্তুত ছিল।’

১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামি বিপ্লব-এর পর এবারের আলোচনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগগুলোর একটি।

আরও জানা গেছে, এই অভিযানে পাকিস্তানের বহরে চীনে তৈরি অত্যাধুনিক Chengdu J-10 যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরছবি: এএফপি

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর নাম ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল। পরে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানালে তাদের নাম সেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

পাকিস্তানের যুক্তি ছিল, এই শীর্ষ কূটনীতিকরা না থাকলে ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ আরও জটিল হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তারা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না।